ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এখন একটি নির্ণায়ক পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) এক টেলিভিশন ভাষণে কাৎজ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংগ্রাম তীব্র হচ্ছে এবং এখন সেই নির্ণায়ক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যা প্রয়োজনমতো চলবে।’
এর আগে হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের উপকূলে অবস্থিত খার্গ দ্বীপে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। পরে এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ‘মুকুটের মণি’ হিসেবে পরিচিত খার্গ দ্বীপে থাকা প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়নি বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমি এখনও দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে ইরান বা অন্য কেউ যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীন ও নিরাপদ পথ ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তাহলে আমি এই সিদ্ধান্তও পুনর্বিবেচনা করব।’
এ সময় ইরানকে আবারও অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের দেশের যা অবশিষ্ট আছে, তা বাঁচাতে এখনই অস্ত্র নামিয়ে রাখা উচিত।’
এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বীমা সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি সম্ভাব্য পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নৌবাহিনীকে হরমুজ প্রণালীতে তেল ও পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া। পাশাপাশি জাপান থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে, যারা দুই সপ্তাহের মধ্যে সেখানে পৌঁছে নিরাপত্তা সহায়তা দিতে পারে।
একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হলে ইরানের তেল অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। তবে এখনো সরাসরি এ ধরনের হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, এ হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন থেকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আইআরজিসি আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের উৎসস্থল, বন্দর, ঘাট এবং আমিরাতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ঘাঁটিকেও তারা নিশানায় নিতে পারে। একই সঙ্গে আমিরাতের বন্দর, ঘাট ও সামরিক স্থাপনার আশপাশে থাকা সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
সিএ/এসএ


