ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অবৈধভাবে ভারতীয় নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে কলকাতার ধর্মতলায় অনির্দিষ্টকালের অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তার এই কর্মসূচিকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা ও কটাক্ষ করেছে বিজেপি ও কংগ্রেস নেতৃত্ব।
আগামী ৭ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে বিধানসভা নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। বিষয়টি ঘিরে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব রাজপথে নেমে আন্দোলন শুরু করেছে।
রাজ্যের মোট ৭ কোটি ৬৬ লাখ ভোটারের মধ্যে এবারের সংশোধনী প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬২ লাখ নাম বিবেচনাধীন তালিকায় যুক্ত হয়েছে এবং ৫৮ লাখ নাম বাদ পড়েছে বলে জানা গেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচনে সম্ভাব্য পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি।
অন্যদিকে বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী দল পাল্টা অভিযোগ তুলেছে, তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে প্রায় ৫৮ লাখ মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটার রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচনে সুবিধা নিয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে একটি স্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন কর্মসূচি শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনের মঞ্চ থেকে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি যেকোনো মূল্যে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় যেতে চায় এবং সেই লক্ষ্যেই ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তার মতে, নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়া দেশের গণতান্ত্রিক অধিকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে এবং সে কারণেই তিনি সরাসরি আন্দোলনের পথে নেমেছেন।
তবে বিজেপি ও কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার কারণে নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন রাজপথে নেমেছেন। যদিও উভয় পক্ষই নিজেদের অভিযোগের পক্ষে শক্ত প্রমাণ এখনো উপস্থাপন করতে পারেনি।
এদিকে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই ঘনিয়ে আসছে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকায় বিবেচনাধীন নামগুলোর যাচাই-বাছাই বিচারকদের মাধ্যমে দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।
এর আগে ২০২৫ সালে বিহারে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ায় প্রায় ৫৩ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে নির্বাচন কমিশন। সেই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বিপুল আসনে জয় লাভ করে সরকার গঠন করে। এরপরই পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের আরও ১২টি রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। তবে সংশোধনীতে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে পশ্চিমবঙ্গেই।
সিএ/এসএ


