মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য নতুন করে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি বাজার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ‘এশিয়া ইন ২০৫০’ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সম্মেলনের লাইভস্ট্রিমে জর্জিয়েভা বলেন, ‘এই সংঘাত যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে এর স্পষ্ট সম্ভাবনা আছে—এটি বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যে, বাজারের মনোভাব, প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলবে। শুধু তাই নয় সর্বত্র নীতিনির্ধারকদের ওপর নতুন চাপ তৈরি করবে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা শুরু করে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর থেকেই তেহরান পাল্টা হামলা শুরু করে, যার প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্বের অন্যতম সম্পদসমৃদ্ধ এই অঞ্চলে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বৈশ্বিক তেলের দাম বেড়েছে এবং শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জর্জিয়েভা বলেন, ‘আমরা এমন এক বিশ্বে আছি, যেখানে আরো বেশি ও অপ্রত্যাশিত ধাক্কা আসছে। আমরা আমাদের সদস্যদের বেশ কিছুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছি যে অনিশ্চয়তাই এখন নতুন স্বাভাবিক। আমরা সম্ভাব্যভাবে দীর্ঘ সময়ের অস্থিরতার মধ্যে আছি।’
তিনি আরও বলেন, এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামাকে ‘রোলার কোস্টারের মতো’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাই যত দ্রুত আমরা এই বিপর্যয়ের শেষ দেখতে পাব, ততই সারা বিশ্বের জন্য ভালো।’
সূত্র: দ্য ডেইলি সাবাহ
সিএ/এএ


