আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ অভিমুখে আসার পথে পানামার পতাকাবাহী একটি বিশাল মালবাহী জাহাজ ডুবে গেছে।
থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলের লায়েম প্রোমথেপ থেকে মাত্র ৩ মাইল দূরে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ‘সিলয়েড আর্ক’ নামের জাহাজটি নিমজ্জিত হয়। তবে জাহাজে থাকা ১৬ জন ক্রু সদস্য সবাইকে জীবিত উদ্ধার করেছে থাই সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, ৪ হাজার ৩৩৯ টন ওজনের এই কার্গো জাহাজটি ২৯৭টি কন্টেইনার নিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসছিল। মাঝসমুদ্রে হঠাৎ পানি ঢুকে জাহাজটি ভারসাম্য হারালে দ্রুত সেটি ডুবতে শুরু করে। দুর্ঘটনার পর জরুরি সহায়তা পাঠানো হলে ক্রুদের উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে যাওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি কেউ আছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
জাহাজ ডোবার পর সমুদ্রে প্রায় ৪ দশমিক ৫ মাইল দীর্ঘ ও ১ মাইল প্রশস্ত এলাকা জুড়ে তেলের আস্তরণ তৈরি হয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয়—২৯৭টি কন্টেইনারের মধ্যে ১৪টিতে ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্য, যা পরিবেশের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। থাই সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘বৃহৎ আকারের সংকট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রোববার একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার গঠন করা হয়। আকাশপথে তেল ছড়ানোর মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত ফুকেটের মূল উপকূলে তেল পৌঁছায়নি, তবে রাসায়নিকসমৃদ্ধ কন্টেইনারগুলো সমুদ্রের সামুদ্রিক প্রাণী ও বাস্তুতন্ত্রের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
বাংলাদেশগামী জাহাজটিতে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্য থাকায় দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে কি না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, তেল ও রাসায়নিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে থাই কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন সংস্থা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান ও সমুদ্র পরিষ্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সিএ/এসএ


