যুক্তরাষ্ট্রে এক ভারতীয় তরুণীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। নিহত তরুণীর নাম নিকিতা গোদিশালা, বয়স ২৭ বছর। তাঁর বাবার দাবি, অর্থসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিকিতার সাবেক প্রেমিক অর্জুন শর্মাকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
খ্রিষ্টীয় নববর্ষের প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া অঙ্গরাজ্যের মেরিল্যান্ডের হাওয়ার্ড কাউন্টিতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিকিতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর অভিযুক্ত অর্জুন শর্মা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে খুঁজছে।
নিহত নিকিতার বাবা আনন্দ গোদিশালা ভারতের হায়দরাবাদে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সন্দেহভাজন হত্যাকারীর পরিচয় ও হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
পুলিশ নিকিতার ২৬ বছর বয়সী সাবেক প্রেমিককে সন্দেহ করলেও আনন্দ গোদিশালা দাবি করেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর মেয়ের প্রেমিক ছিলেন না, বরং সাবেক রুমমেট। তিনি বলেন, ওই অ্যাপার্টমেন্টে চারজন একসঙ্গে থাকতেন। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে চার বছর আগে কলম্বিয়ায় যায়। সেখানকার একটি প্রতিষ্ঠানে সে কাজ করছিল। ছেলেটি একসময় তার রুমমেট ছিল। সাবেক প্রেমিক ছিল, এ কথা ঠিক নয়।’
নিকিতার বাবার মতে, হত্যার পেছনে মূল কারণ অর্থনৈতিক বিরোধ। তিনি বলেন, ‘একটি অ্যাপার্টমেন্টে চারজন থাকত। আমার মেয়ের সাবেক রুমমেট তার কাছ থেকে অনেক টাকা ধার নিত।’ তাঁর দাবি, টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিকিতাকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে যান।
আনন্দ গোদিশালা আরও বলেন, ‘টাকা ফেরত চাইলে ছেলেটি তাকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে যায়। যত দ্রুত সম্ভব আমার মেয়ের মরদেহ হস্তান্তর করতে আমি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করেছি।’ তিনি হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যের বরাতে তিনি জানান, অর্জুন শর্মা একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন এবং ভারতে পালানোর পরিকল্পনা করছিলেন। নিকিতা এসব তথ্য জানতে পেরেছিলেন বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় নিকিতার চাচাতো বোন সরস্বতী গোদিশালা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে হত্যার আগে অভিযুক্ত কত টাকা নিয়েছিলেন, তার বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যার আগে নিকিতার কাছ থেকে অর্জুন শর্মা প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন ডলার ধার নিয়েছিলেন। এর মধ্যে সাড়ে তিন হাজার ডলার ফেরত দিলেও অবশিষ্ট এক হাজার ডলার ফেরত দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
নিকিতা গোদিশালা পেশায় একজন ডেটা অ্যানালিস্ট ছিলেন এবং মেরিল্যান্ডে বসবাস করতেন। গত ২ জানুয়ারি থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে হাওয়ার্ড কাউন্টির পুলিশ অর্জুন শর্মার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে নিকিতার মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযুক্তকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হলে তাঁকে হত্যার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
সূত্র: পিটিআই, স্থানীয় পুলিশ, গণমাধ্যম
সিএ/এসএ


