ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানের পর ইরানের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে বিক্ষোভ চলাকালে যদি আরও প্রতিবাদকারী নিহত হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘খুব শক্ত আঘাত’ আসতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পরিস্থিতির ওপর যুক্তরাষ্ট্র খুব ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে। তিনি জানান, যদি আগের মতো আবার মানুষ হত্যা শুরু হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া হবে কঠোর ও শক্তিশালী।
এর আগে রোববার ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে। তার এই মন্তব্য নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার সকালে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কট্টরপন্থি কর্মকর্তাদের মন্তব্য সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার শামিল। বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নাম উল্লেখ করে বলা হয়, এসব বক্তব্য আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়াতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, জায়নবাদী সত্তা দেশটির জাতীয় ঐক্যে আঘাত হানার যেকোনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে এবং এ ধরনের মন্তব্য সেই উদ্দেশ্যকেই এগিয়ে নিচ্ছে।
এরই মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে সহিংস সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে দোকানদারদের ধর্মঘটের মাধ্যমে বিক্ষোভের সূচনা হয়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আন্দোলন বিস্তৃত হয়ে পড়ে এবং অর্থনৈতিক দাবির পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরা রাজনৈতিক দাবিও তুলতে শুরু করেন।
আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, চলমান বিক্ষোভ এখনো দেশব্যাপী রূপ নেয়নি এবং দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে না বলে সরকারের ধারণা।
সূত্র: আল জাজিরা
সিএ/এসএ


