মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর অনুপস্থিতিতে দেশটির দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রই গ্রহণ করবে। তিনি জানান, নিরাপদ, যথাযথ ও ন্যায়সংগত ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে ওয়াশিংটন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার দিকে ফ্লোরিডার মার–আ–লাগো বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে ততক্ষণ পর্যন্ত পরিচালনা করতে যাচ্ছে, যতক্ষণ না আমরা নিরাপদ, যথাযথ ও ন্যায়সংগত ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন করতে পারি।’ তিনি দাবি করেন, মাদুরোকে আটক করতে কারাকাসের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘একটি শক্তিশালী সামরিক দুর্গে’ অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী।
এই অভিযানকে আমেরিকার সামরিক সক্ষমতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি আমেরিকার ইতিহাসে আমেরিকার সামরিক শক্তি ও সক্ষমতার সবচেয়ে বিস্ময়কর, কার্যকর ও শক্তিশালী প্রদর্শনী।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশই তা অর্জন করতে পারত না, যা আমেরিকা গতকাল অর্জন (মাদুরোকে আটক) করেছে।’ একই সঙ্গে তাঁর দাবি, অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলার সব সামরিক সক্ষমতাকে ‘অকার্যকর’ করে দেওয়া হয়েছিল।
মাদুরোর অনুপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে—এর অর্থ দেশটিতে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েন করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা স্থলসেনা মোতায়েনে ভয় পাই না।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে যাচ্ছি, দেশটি (ভেনেজুয়েলা) যেন সঠিকভাবে পরিচালিত হয়।’
ভেনেজুয়েলা পরিচালনায় কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প জানান, এ মুহূর্তে প্রয়োজনীয় লোকজন মনোনীত করার কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে লোক মনোনীত করছি এবং আমরা আপনাদের জানিয়ে দেব তাঁরা কারা।’ কে বা কারা দেশটি শাসন করবেন—এ প্রশ্নে ট্রাম্প নিজের ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মূলত আমার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষগুলোই মোটা দাগে দেশটি পরিচালনা করতে যাচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাত নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ মার্কিন তেল কম্পানিগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। তাঁর ভাষায়, ‘সবাই জানে, ভেনেজুয়েলার তেলের ব্যবসা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যর্থতায়, পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল। তারা যতটা পারত, তার তুলনায় তারা প্রায় কিছুই উত্তোলন করতে পারছিল না।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের সবচেয়ে বড় মার্কিন তেল কম্পানিগুলোকে; যেগুলো বিশ্বের সবচেয়ে বড়—সেখানে পাঠাতে যাচ্ছি। তারা শত শত কোটি ডলার ব্যয় করবে, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তেল অবকাঠামো মেরামত করবে এবং দেশটির জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে।’
এ ছাড়া মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, দুজনকেই যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হচ্ছে এবং মাদুরোর বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের কাছে অনেক ‘জোরালো প্রমাণ’ রয়েছে।
সিএ/এএ


