ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের প্রতিশ্রুতিকে ‘বেপরোয়া ও বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে ইরানের কর্তৃপক্ষকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা না করার সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘ওয়াশিংটন তাদের উদ্ধার করতে আসবে।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমরা লকড অ্যান্ড লোডেড, যেতে প্রস্তুত।’
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, কোনো হামলার ঘটনা ঘটলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং ‘ঠিক কোথায় আঘাত হানতে হবে তা ভালোভাবেই জানে।’
ইরানে এক সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভে শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত অন্তত দশজন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘ইরান যদি চিরাচরিত অভ্যাসের বশবর্তী হয়ে গুলি চালায় এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সহিংসভাবে হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসবে।’ তবে ওয়াশিংটন কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কিছু বলেননি।
উল্লেখ্য, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। এর জবাবে কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান।
এক্সে (টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরই জানা উচিত যে জনসম্পত্তিতে অপরাধমূলক হামলা সহ্য করা যায় না।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ দেশটি ‘দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করবে’।
সূত্র: বিবিসি
সিএ/এএ


