কক্সবাজারে এক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সেমিনারে বক্তারা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরের বিপুল মৎস্যসম্পদ টেকসইভাবে ব্যবহার করতে হলে আগে মাছের বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সমুদ্র সম্পর্কে সচেতনতা বা ‘সমুদ্র সাক্ষরতা’ বাড়ানো প্রয়োজন।
রেডিয়েন্ট ওশান রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টার (আরওআরইসি) আয়োজিত সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয় শহরের ঝাউতলার রেডিয়েন্ট ফিশওয়ার্ল্ডের সম্মেলনকক্ষে, শিরোনাম ছিল ‘বিজ্ঞান ও সমাজের মধ্যে সেতুবন্ধন: সামুদ্রিক মৎস্যের উন্নত শ্রেণিবিন্যাস ও সমুদ্র সাক্ষরতার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক টেকসই নীল অর্থনীতি’।
কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের (বিএফআরআই) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান শাকিল বলেন, ভুল শ্রেণিবিন্যাস নীতিনির্ধারণে সমস্যা তৈরি করে। তাই সঠিক শনাক্তকরণে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন সমুদ্র সাক্ষরতা ব্যাখ্যা করে বলেন, “সমুদ্র মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও পরিবেশকে কীভাবে প্রভাবিত করে, এ বিষয়ে সচেতনতা থাকলেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়।”
ভারতের কেন্দ্রীয় সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (সিএমএফআরআই) সিনিয়র বিজ্ঞানী ড. সুবল কুমার রাওল বলেন, এখন শুধু চোখে দেখে নয়, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ শনাক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিএনএ বারকোডিং, মরফোমেট্রিকস ও মলিকিউলার ফাইলোজেনি। এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি শনাক্ত, আক্রমণাত্মক প্রজাতি নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করা সম্ভব।
মৎস্য অধিদপ্তরের কাঁকড়া হ্যাচারির ব্যবস্থাপক মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতির সঠিক শ্রেণিবিন্যাস না হলে উৎপাদন ও রপ্তানিতে সমস্যা হয়। বেসরকারি খাতেও বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদ ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি প্রয়োজন।
আরওআরইসির এক্সিকিউটিভ ও রিসার্চ অফিসার মো. আবদুল কাইয়ুম জানান, কক্সবাজারে সামুদ্রিক শিক্ষা ও গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং ‘বঙ্গোপসাগর মৎস্য ডেটাবেজ’ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া স্কুল-কলেজ পর্যায়ে সমুদ্র সাক্ষরতা কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সিএ/এমই


