শীতের তীব্রতায় শরীর কাঁপতে শুরু করলে অনেকেই সেটিকে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বলে ধরে নেন। তবে এই কাঁপুনির পেছনে রয়েছে শরীরের একটি জটিল স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ঠান্ডা পরিবেশে শরীর নিজের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পেশিকে দ্রুত সংকুচিত ও প্রসারিত করে, যার ফলে কাঁপুনি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রিতে নেমে গেলে হাইপোথার্মিয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তখন শরীর কাঁপুনির মাধ্যমে অতিরিক্ত তাপ উৎপাদনের চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রে এই কাঁপুনির ফলে ঘণ্টায় প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।
ঠান্ডার প্রভাবে ত্বকের নিচের রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়, যাতে শরীর থেকে তাপ দ্রুত বেরিয়ে যেতে না পারে। এর ফলে রক্ত চলাচলের ধরনে পরিবর্তন আসে এবং শরীরের তরল অংশ সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। এজন্য শীতকালে বারবার প্রস্রাবের চাপ অনুভূত হয়। ত্বকের রংও ধাপে ধাপে পরিবর্তিত হতে পারে—প্রথমে লালচে, পরে ফ্যাকাশে এবং কখনো নীলচে দেখা যায়।
কেবল ঠান্ডাই নয়, মানসিক চাপ বা ভয় থেকেও অনেকের শরীর কাঁপতে পারে। উদ্বেগের সময় শরীরে অ্যাড্রেনালিন হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়, যা পেশিকে অতিরিক্ত সক্রিয় করে তোলে। ফলে কাঁপুনির অনুভূতি দেখা দেয়।
কাঁপুনি কমাতে শরীরের প্রকৃত কারণ বোঝা জরুরি। ঠান্ডা লাগলে গরম পোশাক পরা, হালকা ব্যায়াম করা এবং উষ্ণ পরিবেশে থাকা সহায়ক হতে পারে। ভয় বা দুশ্চিন্তা থেকে কাঁপুনি হলে ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়া এবং নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা কার্যকর। রক্তে শর্করা কম থাকলে কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করাও উপকারী হতে পারে।
সিএ/এমআর


