ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগে দলের প্রার্থিতার দৌড়ে ছিলেন আট নারী। তবে শেষ পর্যন্ত মাত্র দুইজন মনোনয়ন পান। তাদের মধ্যে একজন সিলেট-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা, আর অপরজন মৌলভীবাজার-২ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী সাদিয়া নৌশিন তাসনিম চৌধুরী।
সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনে মোট প্রার্থী ১০৪ জন। বিশেষ করে নারী প্রার্থীর সংখ্যা অত্যন্ত কম হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা হতাশা প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, ‘জুলাই জাতীয় সনদের যে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল, তা শুরুতেই কার্যকর হয়নি।’
সিলেট-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা বিএনপির নিখোঁজ কেন্দ্রীয় নেতা এম. ইলিয়াস আলীর স্ত্রী। তার প্রার্থিতা আগে থেকেই অনুমেয় ছিল। বাকি ছয় নারী প্রার্থী বিএনপি মনোনয়ন পাননি। মৌলভীবাজার-২ আসনে প্রার্থী হয়েছেন বাসদ (মার্কসবাদী) নেত্রী সাদিয়া নৌশিন তাসনিম চৌধুরী। তিনি কাঁচি প্রতীকে সরাসরি লড়ছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই সিলেটে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করে। এ সময় মাঠে নেমে পড়েন সিলেটের ১৯ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তালিকায় ছিলেন অন্তত আট নারী, যাঁরা সরাসরি দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন:
সিলেট-৪: অ্যাড. জেবুন্নাহার সেলিম (সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমের স্ত্রী)
সিলেট-৫: ব্যারিস্টার সামিরা তানজিম চৌধুরী (সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিবের কন্যা)
সিলেট-৬: সাবিনা আক্তার পপি (যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ)
হবিগঞ্জ-৪: শাম্মী আক্তার (জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক)
মৌলভীবাজার-২: সাদিয়া নৌশিন তাসনিম চৌধুরী (বাসদ, মার্কসবাদী নেত্রী)
তাহসিনা রুশদীর লুনা ছাড়া বাকিরা মনোনয়ন পাননি। তিনি ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল স্বামী এম. ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে সিলেট-২ আসনে দলের কর্তৃত্ব ধরে রেখেছেন। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বনাথ ও বালাগঞ্জে বিএনপির অভিভাবক হিসেবে পরিচিত তিনি।
মৌলভীবাজার-২ আসনের প্রার্থী সাদিয়া নৌশিন তাসনিম চৌধুরী কাঁচি প্রতীকে লড়ছেন এবং নির্বাচনী এলাকায় সমর্থন পেয়েছেন। প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও ধান গবেষক ড. আবেদ চৌধুরীও নৌশিনকে সমর্থন দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে এরকম মানুষ খুব কমই দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।’
নারী প্রার্থীর সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব কম হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ড. আবেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে মেয়েদের অংশগ্রহণ মাত্র তিন শতাংশ। এর চেয়ে অপমানজনক আর কিছু হতে পারে না।’
নারী সংসদসদস্য প্রার্থী সাদিয়া নৌশিন তাসনিমও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘ঐক্যমত্যের কমিশনের আলোচনায় সর্বনিম্ন পাঁচ শতাংশ নারী প্রার্থী থাকা উচিত ছিল। অথচ ৩০টি দল কোনো নারী প্রার্থীই দেয়নি। আমাদের দলের ৩৩ প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনই নারী।’
সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক রেহানা আফরোজ খান বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্খা ছিল নারীর ক্ষমতায়ন। কিন্তু নতুন বাংলাদেশে নারীর প্রতি সেই ইনসাফ দেখা যাচ্ছে না। এই নির্বাচনে সিলেট বিভাগ থেকে মাত্র দুই নারী প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সিলেটের সভাপতি ও বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি সিলেটের প্রধান সৈয়দ শিরিন আক্তার বলেন, ‘নারী প্রার্থী দেওয়ার কথা ছিল, তবে বেশিরভাগ দল তা দেয়নি। এটি নারীদের প্রতি বৈষম্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের বিজয়ীরা ও জাতীয় সনদ বাস্তবায়নকারীরা যদি এ বিষয় বাস্তবায়ন না করেন, আমরা প্রতিবাদ ও আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’
সিএ/এএ


