মানুষের জীবন জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এক ক্ষণস্থায়ী যাত্রা। এই পথে চলতে গিয়ে অনেক সময় মানুষ নিজের আসল গন্তব্য ভুলে যায়। দুনিয়া কি আমাদের চিরস্থায়ী ঠিকানা, নাকি আমরা এখানে সাময়িক অতিথি—এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিয়েছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
হাদিসে বর্ণিত আছে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর কাঁধ ধরে বলেছিলেন, দুনিয়াতে এমনভাবে থাকো যেন তুমি একজন আগন্তুক অথবা একজন পথচারী। এই বাণী মুমিনের জীবনদর্শনের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। একজন পথচারীর দৃষ্টি থাকে তার গন্তব্যের দিকে, পথের সৌন্দর্য তাকে থামিয়ে রাখতে পারে না।
ইসলাম দুনিয়াকে ত্যাগ করতে বলেনি, বরং দুনিয়াকে সঠিক স্থানে রাখতে শিখিয়েছে। হৃদয় থাকবে পরকালের দিকে, আর হাত থাকবে দুনিয়ার কাজের জন্য। দুনিয়া উদ্দেশ্য নয়, বরং একটি মাধ্যম। বিখ্যাত সুফি সাধক ইবনে আতাউল্লাহ ইসকান্দারি (রহ.) বলেন, দুনিয়া একটি সেতু মাত্র; বুদ্ধিমান ব্যক্তি সেতুর ওপর ঘর বাঁধে না, বরং দ্রুত তা অতিক্রম করে।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, জাঁকজমক ও প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই উপলব্ধি মানুষকে অহংকার, হিংসা ও অতিরিক্ত লোভ থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। যখন কেউ নিজেকে মুসাফির মনে করে, তখন অপ্রাপ্তির কষ্ট তাকে সহজে বিচলিত করতে পারে না।
মুসাফিরের জীবনে উদ্বেগ কম থাকে, ক্ষমাশীলতা বাড়ে এবং মানবিক গুণাবলি বিকশিত হয়। সে জানে, দুনিয়ার লাভ-লোকসান সাময়িক। মূল অর্জন হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালের সফলতা।
এই দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে কৃতজ্ঞতা, সংযম ও নৈতিকতার পথে পরিচালিত করে। দুনিয়ার প্রতি অতিমাত্রায় আসক্ত না হয়ে দায়িত্বশীল জীবনযাপনই নববি আদর্শের মূল শিক্ষা।
সিএ/এমআর


