জিম্বাবুয়ের তরুণ ব্যাটসম্যান ব্রায়ান বেনেট এই টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে আপাতত অপরাজিত। তিন ম্যাচে এখনও কাউকে তাঁকে আউট করতে পারেনি। আইসল্যান্ড ক্রিকেটের এক্স হ্যান্ডলের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বেনেটকে বিশ্বের সবচেয়ে কম মূল্যায়িত তরুণ ক্রিকেটার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পোস্টে লেখা হয়, ‘ব্রায়ান বেনেট সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে কম মূল্যায়িত তরুণ ক্রিকেটার। সে উড়তে পারে, পারে ব্যাটিং করতেও।’
বেনেটের উড়ন্ত ফর্ম কেবল ব্যাটিংয়ে সীমাবদ্ধ নয়। গ্রুপ পর্বে ওমানের বিপক্ষে ম্যাচে সীমানার বাইরে গিয়ে তিনি একটি ক্যাচ নেন, যা তাঁকে ‘উড়ন্ত’ ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত করেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে ৪৮*, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬৪* এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬৩* রানের অপরাজিত ইনিংস বেনেটকে এক অনন্য স্থানে দাঁড় করিয়েছে। সর্বোচ্চ রান তোলার শীর্ষ ১০ ব্যাটসম্যানের তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা বেনেটের ব্যাটিং গড় এখন অসীম।
বেনেটের ক্রিকেট যাত্রা শুরু হয় জিম্বাবুয়ের গোরোমঞ্জি এলাকায়। তিন বা চার বছর বয়সে প্রথম ব্যাট হাতে নিয়েছিলেন তিনি। খেলতেন যমজ ভাই ডেভিড এবং ছোট ভাই শনের সঙ্গে। বাবা কেলি বেনেট নেট অনুশীলনের জন্য বাড়িতে বিশেষ ব্যবস্থা করেছিলেন। কেলি বেনেট নিজেও জিম্বাবুয়ের ক্লাব ক্রিকেটে খেলেছেন, যেখানে তিনি ইয়াং ম্যাশনাল্যান্ড ক্লাবের হয়ে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন।
বেনেটের পরিবারে ক্রিকেটের প্রভাব স্পষ্ট। কেলি এবং ডেভিড অনূর্ধ্ব-১৯ দলেও খেলেছেন। ২০২২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ব্রায়ান বেনেট সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক (৬ ম্যাচে ২৭৩) এবং ডেভিড দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (৬ ম্যাচে ২২২) হন। বেনেট পিটারহাউস স্কুল এবং পরে কিংসউড কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেটে দক্ষতা অর্জন করেছেন। অ্যান্ড্রু বার্চের মতে, বেনেটের সাফল্যক্ষুধা এবং সাহস অনন্য।
টি-টুয়েন্টি অভিষেকের পর বেনেট ২০২৪ সালে অন্যান্য সংস্করণেও অভিষিক্ত হন। ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে দ্রুততম সেঞ্চুরি (৯৭ বল) করার কীর্তি গড়েন। এরপরই তাঁর ক্যারিয়ার পাখা মেলতে শুরু করে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফিফটি করার পর বেনেট চরম উচ্ছ্বাস দেখাননি; তিনি সতীর্থ সিকান্দার রাজাকে জড়িয়ে ধরেন। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক রাজা বলেন, ‘ম্যাচের পর ম্যাচ সে পারফর্ম করছে। কৃতিত্বটা তাকে দিতেই হবে।’
বেনেট কেবল ২২ বছর বয়সী। এখনও সামনে অনেক পথ। এই বয়সেই তিনি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অপরাজিত থেকে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা হয়ে উঠেছেন।
সিএ/এমই


