শিরোনাম দেখে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই—এখানকার মাশরাফি ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা নন। речь হলো ১৯ বছর বয়সী ফুটবল তারকা মাশরাফি ইসলামের, যিনি সদ্য সমাপ্ত প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে ১৮ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। তাঁর দল মহাখালী একাদশ লিগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে এবং প্রমোশন পেয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যাত্রাবাড়ী ক্রীড়া চক্র, যারা আগামী মৌসুমে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে (বিসিএল) অংশগ্রহণ করবে।
মাশরাফি এই মুহূর্তে বিসিএলে খেলার জন্য অপেক্ষা করবেন আরও বছরখানেক। যদিও লিগের মাঝপথে বিসিএলে খেলার প্রস্তাব এসেছিল, তিনি মহাখালী একাদশকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। আজকের পত্রিকাকে মাশরাফি বলেন, ‘আমার জেদ আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। সতীর্থরা অনেক সহায়তা করেছে। যদিও লিগের সেরা খেলোয়াড় হতে পারিনি, সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে ভালো লাগছে।’
রাজশাহীতে বেড়ে ওঠা মাশরাফি ফুটবলের সঙ্গে পরিচিতি পেয়েছেন তৃণমূল পর্যায় থেকে। রাজশাহীর কিশোর ফুটবল একাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন করেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও বাবা ট্রাকচালক, বড় ভাই সেনাবাহিনীতে থাকলেও ফুটবল সরঞ্জাম কিনে ও সহায়তা করে তাঁর স্বপ্ন পূরণের পথ খোলা রেখেছেন।
মাশরাফির নাম রাখার পিছনে ক্রিকেটারের প্রভাব থাকলেও তিনি ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি কোনো টান অনুভব করেননি। ‘আমার মামা খুব ক্রিকেটভক্ত, তাই নাম রেখেছিলেন। তবে তিনি এখন আমাকে সমর্থন দেন কারণ আমি ফুটবলে ভালো খেলি। আমার স্বপ্ন ফুটবলার হওয়া,’ বলেন তিনি।
গত মৌসুমে বাড্ডা জাগরণীর হয়ে ঘরোয়া ফুটবলে অভিষেক হলেও এবার মহাখালী একাদশের হয়ে নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করেছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘মাসে দুইটা করে খ্যাপ খেলি, নিজের চলার জন্য এবং পরিবারের জন্য। প্রথম বিভাগের চেয়ে খ্যাপে আয় বেশি। তবে আমার লক্ষ্য ফুটবল লিগে খেলা এবং দুই বছরের মধ্যে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া।’
সিএ/এসএ


