বিশ্বজুড়ে সাইবার অপরাধীরা এখন কম দামের প্রযুক্তিপণ্য ও বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে বটনেট নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অজান্তেই তাদের ব্যক্তিগত ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে অবৈধ ও অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব নেটওয়ার্ক পরিচালনায় ‘রেসিডেনশিয়াল প্রক্সি’ নামে পরিচিত সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ঘরের ইন্টারনেট সংযোগকে তৃতীয় পক্ষের তথ্য আদান–প্রদানের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। কিছু ক্ষেত্রে এই সংযোগ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও কাজে লাগানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক রেসিডেনশিয়াল প্রক্সি নেটওয়ার্ক বৈধ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলেও তা প্রায়ই তথ্য সংগ্রহ বা অনৈতিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে বিনা মূল্যের ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা বিভিন্ন কনটেন্টভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এসব অ্যাপ অনেক সময় ব্যবহারকারীর অজান্তেই তাদের ইন্টারনেট সংযোগ অন্যদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। এতে করে সেই সংযোগ ভবিষ্যতে সন্দেহজনক বা অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, নিজের নেটওয়ার্ক নিরাপদ রাখতে নিয়মিত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। সন্দেহজনক প্রক্সি নোড শনাক্ত করতে সক্ষম টুল ব্যবহার করা যেতে পারে। কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে নেটওয়ার্কে যুক্ত সব ডিভাইস ও ইনস্টল করা অ্যাপ পর্যায়ক্রমে যাচাই করতে হবে।
একই সঙ্গে অবিশ্বস্ত উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করা, সফটওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ রাখা এবং অননুমোদিত ভিপিএন বা স্ট্রিমিং সেবা ব্যবহার থেকে বিরত থাকার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিএ/এমআর


