গত অর্ধশতকে প্রযুক্তি জগতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে অ্যাপল। ব্যক্তিগত কম্পিউটার থেকে শুরু করে স্মার্টফোন এবং পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠানটি নতুন ধারণা ও ব্যবহার পদ্ধতির সঙ্গে মানুষের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপল শুধু নতুন পণ্যই বাজারে আনেনি, বরং ব্যবহারকারীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের অভ্যাসেও আমূল পরিবর্তন এনেছে। অনেকেরই ছবিতে আঙুল দিয়ে টেনে বড় করার অভিজ্ঞতা প্রথমবার আইফোনেই হয়েছিল, যা পরবর্তীতে স্মার্টফোন ব্যবহারের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়।
আইপ্যাড, অ্যাপল ওয়াচ এবং এয়ারপডসের মতো পণ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি অ্যাপ স্টোর, ফেইসটাইম, আইক্লাউড ও আইমেসেজের মতো সেবাগুলো প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তবে নতুনত্ব আনার পথে অ্যাপল অনেক পুরোনো প্রযুক্তিকেও বিদায় জানিয়েছে। ১৯৯৮ সালে আইম্যাক জি৩ উন্মোচনের সময় ফ্লপি ডিস্ক ড্রাইভ বাদ দিয়ে ইউএসবি ও ইন্টারনেট নির্ভর ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকে পড়ে কোম্পানিটি। পরে ম্যাকবুক এয়ারে অপটিক্যাল ড্রাইভ সরিয়ে দিয়ে আরও পাতলা ল্যাপটপের যুগ শুরু করে।
একইভাবে আইপডের মতো জনপ্রিয় পণ্যও শেষ পর্যন্ত আইফোনের কাছে স্থান হারায়। স্মার্টফোনের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে আলাদা মিউজিক প্লেয়ারের প্রয়োজন কমে যায়, যা প্রযুক্তির পরিবর্তনের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।
স্মার্টফোনে ফিজিক্যাল কিবোর্ডের পরিবর্তে টাচস্ক্রিন চালু করাও ছিল একটি বড় পরিবর্তন। শুরুতে এটি ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হলেও সময়ের সঙ্গে এটি মূলধারায় পরিণত হয়। একইভাবে অ্যাডোবি ফ্ল্যাশ সমর্থন না করে ওপেন স্ট্যান্ডার্ডের দিকে ঝুঁকেছিল অ্যাপল, যা পরবর্তীতে শিল্পে বড় পরিবর্তন আনে।
২০১৬ সালে আইফোন থেকে হেডফোন জ্যাক সরিয়ে দেওয়া এবং ম্যাকবুক থেকে বিভিন্ন পোর্ট বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তও শুরুতে সমালোচিত হয়। তবে এসব পরিবর্তনই পরবর্তীতে তারহীন প্রযুক্তি ও ইউএসবি-সি ব্যবহারের পথকে প্রসারিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভালো বা মন্দ—অ্যাপলের প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে তারা কোনো পদক্ষেপ নিলে পুরো প্রযুক্তি শিল্প সেটি অনুসরণ করতে বাধ্য হয়। অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে সমালোচনা হলেও সময়ের সঙ্গে এসব পরিবর্তনই নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে।
সিএ/এমআর


