দেশের সুপারশপ চেইন স্বপ্ন’র বিপুল পরিমাণ গ্রাহক তথ্য ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালে যারা প্রতিষ্ঠানটি থেকে কেনাকাটা করেছেন, তাদের ডেটাবেজ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একটি ডাটাব্রিজ চেকার প্রকাশ করেছে একটি হ্যাকার দল, যেখানে ব্যবহারকারীরা নিজেদের তথ্য যাচাই করছেন।
প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, মোট ২৭ কোটি ৪০ হাজার ৪৭২টি ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ লাখ ৫৮ হাজার ৩৮৪টি মোবাইল নম্বর উন্মুক্ত হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে বহু ব্যবহারকারী অনলাইনে গিয়ে নিজেদের নম্বর যাচাই করছেন এবং বিপজ্জনক তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এ ধরনের চেকার ব্যবহার করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এতে নতুন করে তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের তথ্য ফাঁসের ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে এবং অপরাধীরা সহজেই এসব তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণা চালাতে পারে।
সাইবার সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহা বলেন, ডেটা ফাঁসের ফলে মোবাইল নাম্বার, কেনাকাটার হিস্ট্রি, লোকেশন—এই ডেটাগুলো এখন যদি ভুল হাতে যায়, তাহলে ফোন নম্বর ব্যক্তিকে টার্গেট করে ফোন আসবে; কেনাকাটার অভ্যাস জেনে প্রতারণা করবে। ওটিপি বা ব্যাংকিং ট্রিক দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতে পারে। গ্রাহকের পরিচয় ব্যবহার করে নতুন অ্যাকাউন্টও খুলে ফেলতে পারে। তাই গ্রাহককে এখন এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন ও অফলাইন উভয় প্ল্যাটফর্মের ডেটাবেজ একই হওয়ায় সব ধরনের গ্রাহকই ঝুঁকিতে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্রমতে, কিউলিন এবং লকবিট ৫.০ র্যানসমওয়্যার গ্রুপ এই ডেটা ফাঁসের সঙ্গে জড়িত।
এ বিষয়ে স্বপ্ন’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির জানান, হ্যাকাররা গত ডিসেম্বরেই তাদের ডেটাবেজে প্রবেশ করে এবং পুনরুদ্ধারের জন্য ১৫ লাখ ডলার মুক্তিপণ দাবি করে। বর্তমানে দেশে প্রতিষ্ঠানটির ৮১২টি আউটলেট রয়েছে এবং নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ৪০ লাখের বেশি।
ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে গ্রাহকদের নাম, মোবাইল নম্বর এবং কেনাকাটার বিস্তারিত রয়েছে। তবে কতজন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
সিএ/এমআর


