ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বিশ্বের মোট ডেটা ট্রাফিকের একটি বড় অংশ এই অঞ্চলের সাবমেরিন কেবল দিয়ে পরিবাহিত হয়।
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইরান, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাঝখানে অবস্থিত এই জলপথ দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি পরিবহনের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
এই প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার প্রশস্ত, যেখানে জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট সংকীর্ণ লেন রয়েছে। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার বড় অংশ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যায়।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে প্রণালিটি বন্ধ ঘোষণা করায় সামুদ্রিক চলাচল কমে গেছে এবং জাহাজ বিমার খরচ বেড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামও অস্থির হয়ে উঠেছে।
তবে এ অঞ্চল এখন শুধু জ্বালানির জন্য নয়, ডিজিটাল অবকাঠামোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একাধিক সাবমেরিন কেবল এই পথ দিয়ে অতিক্রম করায় এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে ডেটা আদান–প্রদান অনেকটাই এই রুটের ওপর নির্ভরশীল।
ফ্যালকন, সি-মি-উই-৪, আই-মি-উই এবং ইউরোপ-পার্সিয়া এক্সপ্রেস গেটওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেবলগুলো দক্ষিণ এশিয়াকে বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত রাখে। ধারণা করা হয়, এসব কেবলের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৭ শতাংশ ডেটা ট্রাফিক প্রবাহিত হয়।
এই পরিস্থিতিতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প সংযোগ পথ তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, যাতে একটি রুট ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা যায়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব সীমিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। কারণ, দেশের আন্তর্জাতিক ডেটা সংযোগ প্রধানত লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর হয়ে পরিচালিত হয়। তবে বৈশ্বিক পর্যায়ে বিঘ্ন ঘটলে পরোক্ষ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তা শুধু জ্বালানি নয়, বৈশ্বিক ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবাতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সিএ/এমআর


