শৈশবের দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা ও কল্পনার জগৎ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের জীবন থেকে হারিয়ে যায়। দায়িত্ব, ব্যস্ততা ও গাম্ভীর্যের ভিড়ে খেলাধুলাকে অনেকেই শুধু শিশুদের বিষয় বলে মনে করেন। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়।
গবেষকদের মতে, শিশুদের মতো প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও খেলাধুলা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে খেলার অর্থ শুধুমাত্র মাঠে দৌড়ানো নয়; বরং আনন্দের জন্য করা যেকোনো সৃজনশীল বা সামাজিক কর্মকাণ্ডও এর অন্তর্ভুক্ত।
বড়দের খেলাধুলা হতে পারে গান বাজানো, বন্ধুদের সঙ্গে হাসাহাসি, পাজল সমাধান বা নিছক আনন্দের জন্য কোনো কাজে মেতে ওঠা। মূল বিষয় হলো কোনো নির্দিষ্ট ফলের চিন্তা না করে কৌতূহল ও আনন্দ নিয়ে অংশগ্রহণ করা।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে প্রাপ্তবয়স্করা মানসিক চাপ ভালোভাবে সামলাতে পারেন। পারিবারিক সম্পর্কও এতে আরও মজবুত হয়। পাশাপাশি এটি মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয় এবং বয়স্কদের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।
এছাড়া খেলাধুলা আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং সহানুভূতিশীল আচরণ বাড়ায়। যারা নিয়মিত আনন্দদায়ক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন, তারা সাধারণত বেশি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শহরের অবকাঠামোতেও এমন পরিবেশ থাকা উচিত, যেখানে বড়রা সহজেই খেলাধুলামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন। এতে সামগ্রিক মানসিক সুস্থতা উন্নত হতে পারে।
সমাজে বড়দের খেলাধুলা নিয়ে যে সংকোচ রয়েছে, তা দূর করা জরুরি। কারণ সুস্থ ও আনন্দময় জীবনযাপনের জন্য যেকোনো বয়সেই খেলাধুলা প্রয়োজন।
সিএ/এমআর


