সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়তে থাকা অনলাইন প্রতারণা মোকাবিলায় নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা জোরদার করতে এই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যাতে প্রতারণামূলক কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
মেটার এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতারকেরা নানা কৌশলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা পরিচিত ব্যক্তি, তারকা বা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয় তৈরি করে প্রতারণা চালায়। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় এআইভিত্তিক নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, নতুন এআই টুলটি বিভিন্ন তারকা বা প্রতিষ্ঠানের ছদ্মবেশে পরিচালিত প্রতারণামূলক কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে পারবে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া প্রতিক্রিয়া, প্রোফাইলের বিভ্রান্তিকর তথ্য কিংবা জনপ্রিয় ব্যক্তিদের সঙ্গে সন্দেহজনক পরিচয়ের মতো বিষয় দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রতারণার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত সন্দেহজনক লিংক ও ভুয়া ডোমেইন শনাক্ত করার সক্ষমতাও থাকবে এই প্রযুক্তিতে।
নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফেসবুকে সন্দেহজনক বন্ধুত্বের অনুরোধ এলে ব্যবহারকারীদের সতর্কবার্তা পাঠানোর পরিকল্পনাও করেছে মেটা। একই সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাকাউন্টসংক্রান্ত প্রতারণা ঠেকাতে বিভিন্ন সতর্কবার্তা প্রদর্শন করা হবে। অনেক সময় প্রতারকেরা নানা অজুহাতে ব্যবহারকারীদের কোড লিখতে বা কিউআর কোড স্ক্যান করতে বলেন। এতে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট অন্য একটি ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় এবং প্রতারকেরা সেই অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়। নতুন ব্যবস্থায় এমন সন্দেহজনক অনুরোধের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে আগেই সতর্ক করা হবে।
মেসেঞ্জারেও এআইভিত্তিক প্রতারণা শনাক্তকরণ সুবিধা আরও বেশি দেশে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এই প্রযুক্তি সন্দেহজনক চাকরির প্রস্তাবসহ বিভিন্ন প্রচলিত অনলাইন প্রতারণার ধরন শনাক্ত করে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করতে সক্ষম হবে।
সিএ/এমআর


