স্মার্টফোন এখন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য প্রযুক্তি হয়ে উঠেছে। গান শোনা, ছবি তোলা, ইমেইল দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কিংবা অনলাইন ব্যাংকিং—সবকিছুই এখন স্মার্টফোনের মাধ্যমে সহজেই করা যায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে স্মার্টফোনের ফিচারে বড় ধরনের পরিবর্তন চোখে পড়েনি। এই একঘেয়েমি দূর করতে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই।
সম্প্রতি প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচনায় এসেছে ‘ভাইব কোডিং’ নামে একটি নতুন ধারণা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপের ফিচার পরিবর্তন করতে বা নতুন ছোটখাটো ফাংশন তৈরি করতে পারবেন। ফলে ব্যবহারকারীরা আর শুধু অ্যাপ ডাউনলোড করেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপকে কাস্টমাইজ করে ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং তাদের স্মার্টফোন সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম ওয়ান ইউআই-তে এই ধারণা যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে। সংস্থাটির মোবাইল এক্সপিরিয়েন্স বিভাগের প্রধান উন জন চই জানিয়েছেন, এতদিন ব্যবহারকারীরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা অ্যাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। তবে নতুন প্রযুক্তি চালু হলে মানুষ নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপের ফিচার তৈরি বা পরিবর্তন করতে পারবেন।
যদিও এই প্রযুক্তি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে, তবু প্রযুক্তি দুনিয়ায় এটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে স্মার্টফোন ব্যবহারের ধরণ বদলে দিতে পারে এবং ব্যবহারকারীদের আরও স্বাধীনতা দিতে পারে।
একই ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও। উদাহরণ হিসেবে নাথিং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ‘প্লেগ্রাউন্ড’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। সেখানে ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র টেক্সট নির্দেশনা লিখেই ফ্লাইট ট্র্যাকিং বা মিটিং সারাংশের মতো ছোট ছোট উইজেট তৈরি করতে পারছেন।
এআই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন এই পরিবর্তনকে আরও সহজ করছে। ওপেনএআইয়ের কোডেক্স বা অ্যানথ্রপিকের ক্লাউড এজেন্টের মতো টুল ব্যবহার করে কোডিং না জানলেও সহজে সফটওয়্যার বা ছোট অ্যাপ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। সম্প্রতি এক প্রযুক্তি সাংবাদিক মাত্র ১৫ মিনিটে একটি কার্যকর ম্যাক অ্যাপ তৈরি করে এই প্রযুক্তির সম্ভাবনার একটি বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে স্মার্টফোন আর কেবল প্রযুক্তি কোম্পানির তৈরি অ্যাপের ওপর নির্ভর করবে না। বরং ব্যবহারকারীরাই নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপ তৈরি করে স্মার্টফোন ব্যবহারের নতুন ধারা তৈরি করতে পারবেন। তবে এই জটিল প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজভাবে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সিএ/এমআর


