গরমের মৌসুম শুরু হলেই ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা অনেক সময় অসহনীয় হয়ে ওঠে। তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি পেতে তখন অনেকের প্রধান ভরসা হয়ে ওঠে সিলিং ফ্যান। কারণ সবার পক্ষে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। তাই অধিকাংশ পরিবারের কাছে গরমের সময় সিলিং ফ্যানই সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রগুলোর একটি।
তবে দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে অনেক সময় দেখা যায়, ফ্যান ঘুরলেও আগের মতো জোরে বাতাস পাওয়া যায় না। ধীরগতিতে ঘুরতে থাকা ফ্যান ঘরের গরম বাতাসই শুধু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেয়। এতে স্বস্তির পরিবর্তে অস্বস্তিই বাড়ে। প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, কয়েকটি সহজ কৌশল মেনে চললে পুরোনো ফ্যানের গতিও আবার অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যানের গতি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো ক্যাপাসিটরের সমস্যা। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ক্যাপাসিটর দুর্বল হয়ে গেলে ফ্যান স্বাভাবিক গতিতে ঘুরতে পারে না। প্রয়োজন হলে ক্যাপাসিটর পরিবর্তন করলে ফ্যান আবার আগের মতো দ্রুত ঘুরতে পারে।
এ ছাড়া ফ্যানের ব্লেডে ধুলাবালি জমে থাকলেও এর ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং গতি কমে যায়। নিয়মিত ব্লেড পরিষ্কার করলে ফ্যানের ঘূর্ণন স্বাভাবিক থাকে এবং বাতাসও বেশি পাওয়া যায়।
ফ্যানের বিভিন্ন অংশে থাকা নাট-বল্টু বা স্ক্রু ঢিলা হয়ে গেলেও ঘূর্ণনে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সময় সময় ফ্যান পরীক্ষা করে ঢিলা অংশগুলো ঠিক করে নেওয়া প্রয়োজন।
অনেক এলাকায় বিদ্যুতের ভোল্টেজ ওঠানামা করে। এতে ফ্যানের গতিও কমে যেতে পারে। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল আছে কি না, সেটিও খেয়াল রাখা জরুরি।
দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ফ্যানের ভেতরের অংশে থাকা গ্রিজ শুকিয়ে যেতে পারে। এতে ঘর্ষণ বাড়ে এবং ফ্যানের গতি কমে যায়। নিয়মিত সার্ভিস করিয়ে নতুন গ্রিজ ব্যবহার করলে ফ্যান আবার ভালোভাবে কাজ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, খুব খোলা জায়গা বা অতিরিক্ত ধুলাবালিযুক্ত স্থানে ফ্যান বসালে বাইরের বাতাসের চাপ এবং ধুলাবালির কারণে এর কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই ফ্যানের অবস্থান নির্বাচনেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
গরমের সময় আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে ফ্যানের নিয়মিত যত্ন নেওয়া জরুরি। ছোট ছোট এই কৌশলগুলো মেনে চললে পুরোনো সিলিং ফ্যানও অনেকটা নতুনের মতো কার্যকরভাবে বাতাস দিতে পারে।
সিএ/এমআর


