পবিত্র রমজান মাসে সেহরি খাওয়ার পর সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকেন রোজাদাররা। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর মাগরিবের আজানের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা হয়। তবে অনেকেরই ইফতারের পর শরীরে ক্লান্তি বা ঝিমুনি অনুভূত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতারের সময় কী খাওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে খাওয়া হচ্ছে তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে শরীরের সতেজতা। সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে ইফতারের পর ক্লান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ইফতারের শুরুতে একটি খেজুর ও এক গ্লাস পানি খেয়ে মাগরিবের নামাজ আদায় করার পরামর্শ দেন অনেকে। এতে নামাজ সময়মতো পড়া হয় এবং এ সময়ের মধ্যে পেটও খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে। নামাজ শেষে ধীরে ধীরে বাকি খাবার খেলে শরীরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।
সারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাই ইফতারের পর পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। ফল, ফলের রস, শরবত বা ডাবের পানি পান করলে শরীরের পানির ঘাটতি দ্রুত পূরণ হয়।
ইফতারের সময় একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ না করারও পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। দীর্ঘ সময় ক্ষুধার্ত থাকার পর একবারে বেশি খেলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। তাই অল্প অল্প করে কয়েক ধাপে খাবার খাওয়াই বেশি উপকারী।
ইফতারের পরপরই শুয়ে না পড়ে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে শরীরের ক্লান্তি কমে এবং খাবার হজমেও সহায়তা করে। এতে শরীর সতেজ থাকে এবং ঝিমুনি কম অনুভূত হয়।
অনেকে রমজান মাসে চা বা কফি পান করা কমিয়ে দেন। তবে ইফতারের পর হালকা এক কাপ চা বা কফি পান করলে শরীর কিছুটা সতেজ অনুভূত হতে পারে। কারণ এসব পানীয়তে থাকা ক্যাফেইন শরীরকে চাঙ্গা রাখতে সহায়তা করে। তবে পানীয় যেন খুব বেশি কড়া না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারের পর অতিরিক্ত তেল, চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবার কম খাওয়া, ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস ক্লান্তি দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সিএ/এমআর


