আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কার্যকাল ধীরে ধীরে শেষের দিকে এগোচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তার বিকল্প হিসেবে বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক মহাকাশ স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভাস্ট। হেভেন ১ নামের এই স্টেশনটি ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হেভেন ১ স্টেশনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংযোজনের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বর্তমানে প্রেশারাইজড ফ্লুইড সিস্টেম বা চাপযুক্ত তরল সঞ্চালনব্যবস্থা স্থাপনের কাজ চলছে।
প্রকৌশলীরা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য থার্মাল কন্ট্রোল লাইন, লাইফ সাপোর্ট টিউব এবং প্রপালশন সিস্টেমের পাইপলাইন স্থাপন করছেন। পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগে প্রতিটি পাইপ ও ট্যাংকের চাপ এবং সম্ভাব্য লিকেজ পরীক্ষা করা হবে। এরপর এতে এভিয়নিক্স, নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং বায়ু শোধনাগার বা এয়ার রিভাইটালাইজেশন হার্ডওয়্যার যুক্ত করা হবে।
হেভেন ১ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্রু স্টেশন হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছে ভাস্ট। এটি মূলত মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা অতি ক্ষুদ্র অভিকর্ষজ বলের পরিবেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
তবে এই প্রকল্প ভাস্টের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। হেভেন ১–এর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে হেভেন ২ নামের আরও বড় মহাকাশ স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেটিকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা কক্ষপথে মানুষের ধারাবাহিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
ভাস্ট জানিয়েছে, প্রচলিত মহাকাশ কর্মসূচির তুলনায় তাদের উৎপাদন খরচ প্রায় ১০ গুণ কমানো সম্ভব হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ভার্টিক্যালি ইন্টিগ্রেটেড ম্যানুফ্যাকচারিং পদ্ধতি অনুসরণ করছে, যেখানে হার্ডওয়্যার তৈরি, পরীক্ষা এবং উন্নয়নের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
এ বিষয়ে ভাস্টের প্রধান নির্বাহী ম্যাক্স হোট বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন অবসর নেওয়ার পর যেন কক্ষপথে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়।’
সিএ/এমআর


