মহাকাশ গবেষণায় নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে জাপান। প্রচলিত ধাতব উপাদানের পরিবর্তে কাঠ দিয়ে তৈরি একটি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছে দেশটি। লিগনোস্যাট নামের এই ক্ষুদ্র স্যাটেলাইট তৈরি করা হয়েছে ম্যাগনোলিয়া কাঠ দিয়ে। মহাকাশে ধাতব বর্জ্য কমানোর লক্ষ্যেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা।
জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি জাক্সা, কিয়োটো ইউনিভার্সিটির গবেষক এবং সুমিটোমো ফরেস্ট্রি যৌথভাবে এই স্যাটেলাইট তৈরির কাজ সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটটি কক্ষপথে পাঠানো হয়।
গবেষকদের মতে, মহাকাশে কাঠ ব্যবহারের পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব। তিন ধরনের কাঠের ওপর দীর্ঘ গবেষণা চালিয়ে দেখা যায়, ম্যাগনোলিয়া বা হোনোকি কাঠ মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশে সবচেয়ে স্থিতিশীল থাকে। এই কাঠ মহাশূন্যের শূন্যতা, মহাজাগতিক বিকিরণ এবং তাপমাত্রার চরম ওঠানামা সহ্য করতে পারে।
লিগনোস্যাটের প্যানেল তৈরিতে কোনো স্ক্রু বা আঠা ব্যবহার করা হয়নি। বরং জাপানের ঐতিহ্যবাহী কাঠ জোড়া লাগানোর কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে। গবেষকেরা জানান, কাঠের ভেতর দিয়ে ভূচৌম্বকীয় ক্ষেত্র সহজে প্রবাহিত হতে পারে, যা স্যাটেলাইটের অভ্যন্তরীণ ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনায় সহায়ক।
বর্তমানে অধিকাংশ স্যাটেলাইট অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি হয়। এসব স্যাটেলাইটের কার্যকাল শেষ হলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় পুড়ে গিয়ে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের ক্ষুদ্র কণা তৈরি করে। এসব কণা বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে জমে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
অন্যদিকে কাঠ দিয়ে তৈরি স্যাটেলাইট বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং কোনো ক্ষতিকর ধাতব অবশিষ্টাংশ রেখে যায় না। ফলে মহাকাশের বর্জ্য কমানো এবং বায়ুমণ্ডল দূষণ হ্রাসে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
প্রাথমিক পরীক্ষায় লিগনোস্যাট কক্ষপথে ১১৬ দিন অবস্থান করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। এই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ২০২৭ সালে লিগনোস্যাট ২ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
গবেষকদের মতে, আকারে ছোট হলেও এই স্যাটেলাইট মহাকাশ দূষণ কমানোর প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কাঠের মতো নবায়নযোগ্য উপাদান ব্যবহার ভবিষ্যতের মহাকাশ প্রযুক্তিকে আরও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে পারে।
সিএ/এমআর


