কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে বড় পরিসরে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। এর অংশ হিসেবে একাধিক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়েছে, যেগুলোর বেশ কয়েকটি বিনামূল্যে সম্পন্ন করা যাবে। সরকারের লক্ষ্য, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মীদের দক্ষ করে তোলা এবং ভবিষ্যতের কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করা।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত এক কোটি কর্মীকে এআই–সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। ওপেন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পর গত ৫৫ বছরে এটিই যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কোর্সগুলোতে এআই টুলের ব্যবহারিক দিক শেখানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে চ্যাটবটকে কার্যকর প্রশ্ন করার কৌশল, প্রশাসনিক কাজে এআইয়ের সহায়তা নেওয়া, দ্রুত নোট তৈরি, ইমেইল লেখার খসড়া প্রস্তুত এবং তথ্য সাজানোর পদ্ধতি।
এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়নে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্ত হয়েছে। অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফট উদ্যোগটিতে সহযোগিতা করছে। মোট ১৪টি কোর্স সম্পন্ন করলে অংশগ্রহণকারীরা একটি ভার্চুয়াল ব্যাজ পাবেন, যা ভবিষ্যতে দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে কাজে লাগবে।
যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেন, সরকারের লক্ষ্য মানুষকে কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে আত্মবিশ্বাসী করে তোলা। তার মতে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন অনিবার্য হলেও সেই পরিবর্তনের দিকনির্দেশনা নির্ভর করে নীতিনির্ধারণের ওপর। সরকার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রেখে এআইয়ের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে চায়।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ব্রিটিশ কম্পিউটার সোসাইটি। তাদের মতে, দায়িত্ব শুধু কর্মীদের নয়, বরং প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদেরও প্রযুক্তি বোঝার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বোর্ড পর্যায়ের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের এআই সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি বলে তারা মনে করে।
কোর্সগুলোর সময়সীমা ভিন্ন ভিন্ন। কিছু কোর্স ২০ মিনিটের, আবার কিছু কয়েক ঘণ্টাব্যাপী। যুক্তরাজ্যের যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক এতে অংশ নিতে পারবেন। এনএইচএস, ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্স এবং লোকাল গভর্নমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ আরও কয়েকটি বড় সংস্থা এই উদ্যোগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে এবং তাদের কর্মী ও সদস্যদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে।
সিএ/এমআর


