আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের অংশ হিসেবে চার নভোচারীকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। আট মাসের এই মিশনে অংশ নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও রাশিয়ার অভিজ্ঞ নভোচারীরা। ওজনহীন পরিবেশে বৈজ্ঞানিক, চিকিৎসা ও কারিগরি নানা গবেষণা পরিচালনা করবেন তারা।
শুক্রবার ভোরে ফ্লোরিডার আটলান্টিক উপকূল থেকে ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটের মাধ্যমে মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে মিশনটি। কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। দুই স্তরবিশিষ্ট এ রকেটের মাথায় ছিল ‘ফ্রিডম’ নামের স্বয়ংক্রিয় ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুল।
নয়টি মার্লিন ইঞ্জিনের গর্জনে উৎক্ষেপণের সময় আকাশ কেঁপে ওঠে। প্রতি সেকেন্ডে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহারের ফলে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী ভোরের আকাশ আলোকিত করে তোলে। উৎক্ষেপণের নয় মিনিট পর রকেটের ওপরের অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ২৭ হাজার কিলোমিটারের বেশি গতিতে ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলকে কক্ষপথে পৌঁছে দেয়। একই সময়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বুস্টারটি সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসে নির্ধারিত স্থানে অবতরণ করে।
৩৪ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা শেষে শনিবার বিকেলে মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪২০ কিলোমিটার ওপরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডকিং করে। সেখানে আগে থেকেই অবস্থানরত সদস্যরা নতুন দলকে স্বাগত জানান।
এই অভিযানের নাম ‘ক্রু-১২’। এতে অংশ নিয়েছেন নাসার দুই নভোচারী, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার একজন ফরাসি নভোচারী এবং রাশিয়ার একজন নভোচারী। অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিজ্ঞ নভোচারী জেসিকা মেয়ার। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রথমবারের মতো মহাকাশে যাওয়া জ্যাক হ্যাথওয়ে, ফরাসি পাইলট সোফি আদিনো এবং রুশ নভোচারী আন্দ্রে ফেদিয়ায়েভ।
নাসা জানিয়েছে, এ মিশনে নিউমোনিয়ার ব্যাকটেরিয়া নিয়ে বিশেষ গবেষণা, মহাকাশে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে উদ্ভিদ ও নাইট্রোজেন অণুজীবের মিথস্ক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি যাচাই করা হবে। এসব গবেষণা নাসার দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সিএ/এমআর


