২০৩০ সাল কল্পনা করলে দেখা যেতে পারে এক ভিন্ন বাস্তবতা। অফিসে যাওয়ার তাড়া নেই, বসের চাপ নেই, চাকরি হারানোর ভয়ও নেই। কারণ, তখন হয়তো অধিকাংশ মানুষেরই আর চাকরি থাকবে না। এমনই বিস্ময়কর ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন সিঙ্গুলারিটি নেটের প্রতিষ্ঠাতা বেন গোয়ের্টজেল। বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন, ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে মানুষের প্রায় ৯৯ ভাগ চাকরি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
এই বক্তব্য প্রথমে আতঙ্কের মনে হলেও বেন গোয়ের্টজেল বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্নভাবে। তাঁর মতে, চাকরি হারানো মানবজাতির জন্য অভিশাপ নয়, বরং আশীর্বাদও হতে পারে। কারণ মানুষ মূলত বাধ্য হয়েই চাকরি করে। এআই যখন প্রশাসনিক কাজ, পরিবহন, লজিস্টিকসসহ অধিকাংশ কাজ সামলে নেবে, তখন মানুষ শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান কিংবা সমাজসেবার মতো সৃজনশীল কাজে সময় দিতে পারবে। এতে কাজ আর বাধ্যতামূলক থাকবে না, বরং ঐচ্ছিক হয়ে উঠবে।
তবে বর্তমান চ্যাটজিপিটি বা জেমিনাইয়ের মতো এআই দিয়ে এখনই মানুষের চাকরি পুরোপুরি দখল হয়ে যাবে না। বেন গোয়ের্টজেলের মতে, মূল পরিবর্তন আসবে আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স বা এজিআইয়ের মাধ্যমে। এজিআই এমন এক পর্যায়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা মানুষের মতো কিংবা মানুষের চেয়েও উন্নতভাবে চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে। তাঁর ধারণা, ২০২৭ সালের মধ্যেই এমন প্রযুক্তি বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
৯৯ ভাগ চাকরি হারালেও কিছু পেশা তখনো টিকে থাকতে পারে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত পাঁচ ধরনের কাজ কিছুদিনের জন্য হলেও টিকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জটিল শারীরিক কাজ, যেমন প্লাম্বার বা ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ; মানবিক সংযোগনির্ভর পেশা, যেমন থেরাপিস্ট বা নার্সিং; সৃজনশীল শিল্প ও সাহিত্য; কৌশলগত নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ; এবং এআই ও রোবট রক্ষণাবেক্ষণের কাজ।
তবে এত বড় পরিবর্তনের পর মানুষের জীবনযাপন কেমন হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। কাজ না থাকলে জীবিকা কীভাবে চলবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো পরিষ্কার নয়। ২০৩০ সাল খুব দূরে নয়, তাই এই ভবিষ্যতের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্র কতটা প্রস্তুত, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সিএ/এমআর


