বিশ্বের ধনী ও উদ্ভাবক ব্যক্তি ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, তাঁর মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্স চাঁদে একটি ‘সেল্ফ গ্রোয়িং সিটি’ বা স্বয়ং-বিকশিত শহর গড়ার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। মাস্কের মতে, দশ বছরের কম সময়ের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হতে পারে।
মাস্ক সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, মঙ্গলে শহর গড়ার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা থেকে স্পেসএক্স সরানো হয়নি। ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যেই চাঁদে এই শহরের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, মানব সভ্যতার ভবিষ্যৎ নিরাপদ করা এখন প্রধান অগ্রাধিকার, আর চাঁদে শহর স্থাপন comparatively দ্রুত করা সম্ভব।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাস্কের প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে, তারা প্রথমে চাঁদে যাত্রা অগ্রাধিকার দেবে এবং মঙ্গলে যাওয়ার কাজ পরে করবে। স্পেসএক্স ২০২৭ সালের মার্চে মানববিহীন চন্দ্রাভিযান পাঠানোর লক্ষ্য ঠিক করেছে।
মাস্কের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাঁদের শহর হবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং ক্রমেই নিজে নিজে সম্প্রসারিত হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে, চাঁদে মানুষের বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর এখনও কোনো মানুষ চাঁদের পৃষ্ঠে যায়নি।
মাস্ক আরও ঘোষণা দিয়েছেন যে, তাঁর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই এখন স্পেসএক্সের অধীনে চলে এসেছে। এই অধিগ্রহণের মাধ্যমে স্পেসএক্সের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ ট্রিলিয়ন ডলার, আর এক্সএআই-এর মূল্য ধরা হয়েছে ২৫০ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই সমন্বয় স্পেসএক্সকে মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার তৈরিতে সহায়তা করবে। মাস্কের ধারণা, এ ধরনের সেন্টার পৃথিবীর তুলনায় শক্তি-সাশ্রয়ী হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কম্পিউটিং চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে।
এছাড়া, স্পেসএক্স আশা করছে, চলতি বছরে আইপিও বা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ৫০ বিলিয়ন ডলার তোলা সম্ভব হবে। মাস্ক জানিয়েছেন, এ বছর তাদের আয়ের মাত্র পাঁচ শতাংশেরও কম আসবে নাসা থেকে, যদিও স্পেসএক্স নাসার আর্টেমিস চন্দ্র কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ ঠিকাদার। চাঁদের পৃষ্ঠে নভোচারী নামাতে স্পেসএক্সের স্টারশিপ ব্যবহার করার জন্য নাসার সঙ্গে ৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি আছে।
মাস্কের ফোকাস শুধুই মহাকাশে নয়। তিনি তাঁর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান টেসলা-কেও নতুন পথে নিতে চাইছেন। বৈশ্বিক বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার তৈরি করার পর এখন টেসলা স্বচালিত গাড়ি ও রোবট প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। চলতি বছরে টেসলা ২০ বিলিয়ন ডলার খরচের পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি এবং অপটিমাস রোবট উন্নয়ন।
ছবি: সংগৃহীত


