একবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞান ও চিন্তাজগৎ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। মানুষ, জীবন ও প্রকৃতি সম্পর্কে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণাগুলো নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনের পেছনে যে ধারণাগুলো বড় ভূমিকা রাখছে, তার অন্যতম হলো মাইক্রোবায়োম। নিউ সায়েন্টিস্টে প্রকাশিত ২১টি গুরুত্বপূর্ণ ধারণার ধারাবাহিক আলোচনায় প্রথম পর্ব হিসেবে উঠে এসেছে অণুজীবের এই বিস্ময়কর জগৎ।
মাইক্রোবায়োম বলতে কোনো নির্দিষ্ট পরিবেশে বসবাসকারী সব অণুজীব এবং তাদের জিনগত উপাদানকে বোঝায়। আকারে অতি ক্ষুদ্র হলেও মানবদেহে এদের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শরীরে যতগুলো নিজস্ব কোষ রয়েছে, প্রায় সমসংখ্যক অণুজীবও আমাদের সঙ্গে সহাবস্থান করে। অন্ত্র, ত্বক, মুখগহ্বর ও নাকসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ভিন্ন ভিন্ন অণুজীবের বসতি গড়ে উঠেছে।
দীর্ঘদিন জীবাণুকে কেবল ক্ষতিকর হিসেবে দেখা হলেও আধুনিক গবেষণা বলছে, সুস্থ জীবনের জন্য এরা অপরিহার্য। অণুজীব রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করে, খাবার হজমে সহায়তা করে এবং ক্ষতিকর জীবাণুর আক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে। লন্ডনের কিংস কলেজের টিম স্পেক্টর বলেন, ‘অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম মানবস্বাস্থ্য সম্পর্কে আমাদের ধারণা আমূল বদলে দিয়েছে। এখন আমরা জানি, এগুলো বিপাকক্রিয়া থেকে মানসিক সুস্থতা পর্যন্ত প্রভাব ফেলে।’
১৭শ শতকে আন্তোনি ভ্যান লিউয়েনহুক প্রথম অন্ত্রের অণুজীব শনাক্ত করলেও এ বিষয়ে বড় অগ্রগতি আসে ২০০০-এর দশকে। জেনেটিক সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তির উন্নতির ফলে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, প্রতিটি মানুষের একটি অনন্য অণুজীবীয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট রয়েছে। গবেষণায় আরও জানা যায়, মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য নষ্ট হলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, পারকিনসন এমনকি অটিজম-সদৃশ উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
গবেষকদের মতে, অণুজীবের বৈচিত্র্যই সুস্থতার মূল চাবিকাঠি। খাদ্যাভ্যাস, ওষুধ ও পরিবেশের পরিবর্তনে এই ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। ভবিষ্যতে মাইক্রোবায়োমভিত্তিক চিকিৎসা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিএ/এমআর


