সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতির মেঘগুলো আমাদের কল্পনার চেয়ে অনেক গভীর ও ঘন। টেলিস্কোপে দেখা যায় এর গায়ে আঁকাবাঁকা দাগ ও বিশাল মেঘের কুণ্ডলী, যা পর্যবেক্ষককে মুগ্ধ করে। পৃথিবীর মতো বৃহস্পতিতেও পানি রয়েছে। তবে এই ঘন মেঘের চাদর এত পুরু যে এর নিচে কী আছে তা সরাসরি দেখার সুযোগ এখনও কোনো নভোযানের হয়নি।
২০০৩ সালে নাসা তাদের গ্যালিলিও নভোযান বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে পাঠায়। লক্ষ্য ছিল গ্রহের ভেতরের তথ্য সংগ্রহ করা। কিন্তু বিপুল চাপের কারণে গ্যালিলিও কিছুদূর যাওয়ার পরই পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় এবং ধ্বংস হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো এবং নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীরা এবার বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিখুঁত ডিজিটাল মডেল তৈরি করেছেন। এই মডেল থেকে জানা গেছে, সূর্যের তুলনায় বৃহস্পতিতে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় দেড় গুণ বেশি। এটি গ্রহের জন্ম ও অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। প্রচুর বরফ জমাট বাঁধার জন্য বৃহস্পতির জন্ম সম্ভবত বর্তমান কক্ষপথের তুলনায় আরও দূরে হয়েছিল বা এটি বরফসমৃদ্ধ ধূলিকণা নিজের দিকে টেনে নিয়েছিল।
বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে এক বিশাল রাসায়নিক গোলকধাঁধা চলতে থাকে। গভীর তাপমাত্রায় অণু-পরমাণু ক্রমাগত রূপান্তরিত হয়। অ্যামোনিয়া, মিথেন এবং পানির বাষ্প একত্রিত হয়ে নানা রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর পোস্টডক্টরাল গবেষক জিহিউন ইয়াং বলেন, সঠিক চিত্র পেতে হলে গ্যাসের প্রবাহ এবং রাসায়নিক বিক্রিয়া একসাথে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
নতুন মডেল দেখাচ্ছে, বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলের ওপর-নিচের গ্যাসের চলাচল আগের ধারণার তুলনায় ৩৫ থেকে ৪০ গুণ ধীর। এক স্তর থেকে অন্য স্তরে অণু পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। বিশাল গ্রেট রেড স্পটের ভয়ঙ্কর ঝড়ের মধ্যেও গভীরের গ্যাসের চলাচল ধীর।
এই আবিষ্কার শুধু বৃহস্পতিকে বোঝাতে সাহায্য করবে না, বরং মহাবিশ্বের অন্যান্য গ্রহ ও এক্সোপ্ল্যানেটের সম্ভাব্য প্রাণের অস্তিত্ব বোঝাতেও সহায়ক হবে।
সিএ/এমআর


