দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন একটি মাইলফলক হিসেবে প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডে স্পেকট্রাম বরাদ্দের ডিমান্ড নোট পেয়েছে গ্রামীণফোন। প্রয়োজনীয় সব নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) প্রতিষ্ঠানটিকে এই বরাদ্দপত্র দিয়েছে। বরাদ্দ অনুযায়ী ১৩ বছরের জন্য গ্রামীণফোনকে ১০ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) গ্রামীণফোনের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, এই স্পেকট্রাম বরাদ্দের বিপরীতে আগামী ১৩ বছরে জাতীয় রাজস্ব খাতে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা অবদান রাখবে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে ৭০০ মেগাহার্জ ব্যান্ড ব্যবহার করে সার্বিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ভবিষ্যতে আরও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লো-ব্যান্ড বৈশিষ্ট্যের কারণে ৭০০ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম ব্যবহার করলে প্রতিটি বেস স্টেশন থেকে তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত এলাকায় নেটওয়ার্ক কভারেজ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে কম খরচে ও দ্রুতগতিতে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ সহজ হবে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে অফিস, হাসপাতাল, শপিং মল, উঁচু ভবন, বেসমেন্ট ও লিফটের মতো স্থানে গ্রাহকেরা আরও উন্নত ও নির্ভরযোগ্য ইনডোর সিগন্যাল পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
স্পেকট্রাম বরাদ্দ প্রসঙ্গে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, এই স্পেকট্রামের জন্য প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। পরবর্তী ধাপে এই ব্যান্ড ব্যবহার করে দেশব্যাপী সেবা চালু করতে আরও বড় বিনিয়োগ করা হবে। এটি গ্রাহকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে উন্নতমানের ডেটা নেটওয়ার্ক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, লো-ব্যান্ড স্পেকট্রাম ফোরজি সেবার কার্যকারিতা বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি ফাইভজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংসসহ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির জন্য প্রস্তুতি নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে অধিক গতির ডেটা, কম ল্যাটেন্সি এবং বিভিন্ন পরিবেশে উন্নতমানের গ্রাহক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সিএ/এমআর


