প্রাণীদের ভূমিকম্প আগাম টের পাওয়ার ধারণাটি বহুদিনের প্রচলিত বিশ্বাস। যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও মেলেনি, বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ও সাম্প্রতিক গবেষণা এই প্রশ্নকে আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরিয়ে এনেছে।
দুর্যোগে বন্যপ্রাণীর বেঁচে থাকার কৌশল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বহু গবেষণা এবং ইতিহাসে দেখা গেছে, প্রাণীরা বিপদ আসার আগেই অস্বাভাবিক আচরণ প্রদর্শন করে। প্রাচীন গ্রিসে খ্রিস্টপূর্ব ৩৭৩ সালে বড় ভূমিকম্পের আগে ইঁদুর, বেজি, সাপ, কাঁকড়া ও বিছা গর্ত ত্যাগ করেছিল বলে বর্ণনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও বিভিন্ন মাছ, পাখি ও গৃহপালিত প্রাণীর অস্বাভাবিক নড়াচড়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং স্থানীয় অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ভূমিকম্পে দুটি তরঙ্গ তৈরি হয়—ক্ষুদ্র ‘পি’-ওয়েভ এবং বড় ‘এস’-ওয়েভ। প্রাণীরা প্রায়শই ক্ষুদ্র ‘পি’-ওয়েভের সংকেত ঘ্রাণ, স্পর্শ বা শ্রবণশক্তির মাধ্যমে টের পেতে পারে। তবে এই সতর্কতা কয়েক সেকেন্ডের জন্য সীমাবদ্ধ।
চীনে ১৯৬৬ সালের শিনতাই ভূমিকম্পের পর প্রাণীর আচরণ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়। পরবর্তী কয়েক বছর ধরে পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পিকিনিজ কুকুর, বানর, মুরগি ও ইঁদুর নিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। ইতালিতে বিজ্ঞানী মার্টিন ভিকেলস্কি গরু, ভেড়া ও কুকুরের ওপর সেন্সর ব্যবহার করে গবেষণা চালান। তিনি দেখেন, বড় ভূমিকম্পের প্রায় ২০ ঘণ্টা আগে প্রাণীদের সক্রিয়তা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
যদিও কিছু গবেষণা প্রাণীদের সম্ভাব্য সতর্কতার ইঙ্গিত দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মানুষের উচিত ভূমিকম্প শনাক্তকরণে বৈজ্ঞানিক সিসমিক পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করা। তবে প্রাণীদের আচরণ, বিবর্তনজনিত প্রবৃত্তি ও সাম্প্রতিক গবেষণা মানবজাতির জন্য ভবিষ্যতে নতুন আলোচনার পথ খুলতে পারে।
সিএ/এমআর


