শিশুর বয়স যখন মাত্র কয়েক মাস, তখন অনেক অভিভাবক মনে করেন, বই পড়ে শোনানোর সময় এখনও আসেনি। সাধারণ ধারণা হলো—শিশু ভাষা বুঝতে শেখার পরই বইয়ের প্রয়োজন। তবে শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মের পর থেকেই বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করানো শিশুর মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের নীতিমালায় বলা হয়েছে, শিশুর জন্মের পর থেকেই পড়াশোনা বা বই পড়ে শোনানোকে প্রাথমিক শিশু পরিচর্যার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। চিকিৎসকদের দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে বাবা–মাকে এ বিষয়ে সচেতন করা। আমাদের দেশে এ ধরনের চর্চা এখনো খুব বেশি দেখা যায় না, তবে অভ্যাস গড়ে তুললে শিশুরা ভবিষ্যতে স্মার্ট ও বুদ্ধিদীপ্ত হয়ে ওঠে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুর বাড়িতে বেশি বই থাকে এবং নিয়মিত বই পড়ে শোনানো হয়, তাদের ভাষা শেখার দক্ষতা দ্রুত বাড়ে এবং স্কুলজীবনে তারা ভালো ফলাফল করে। পেডিয়াট্রিক্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, বইয়ের সংস্পর্শে থাকা শিশুদের মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট অংশ বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে, যেখানে শব্দ ও দৃশ্যের সমন্বয় ঘটে।
শিশুচিকিৎসাবিদেরা বলছেন, মা যখন গল্প পড়ে শোনান, তখন শিশু নিজের মনে কল্পনার ছবি তৈরি করে। যেমন, মা বললে—‘একটা কাক গাছের ডালে বসে কা-কা করছে।’ তখন শিশুর মনে কাক ও গাছের দৃশ্য ভেসে ওঠে। এতে ভাষা ও কল্পনার মধ্যে সংযোগ তৈরি হয়। শুধু ভিডিও দেখালে এই শেখার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং কল্পনাশক্তির বিকাশ কমে যায়।
বইয়ের গল্পে নতুন নতুন শব্দ থাকায় শিশুর শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হয়। এতে তাদের চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি এবং শেখার আগ্রহ বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস শিশুকে মেধাবী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
সিএ/এমআর


