শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারে অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন ও কঠোর আইনের প্রভাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। আইন কার্যকরের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই দেশটিতে মেটা প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট ব্লক বা বন্ধ করেছে। সোমবার এক ব্লগ আপডেটে এই তথ্য জানায় মেটা।
মেটার তথ্য অনুযায়ী, নতুন আইন মেনে চলতে তাদের তিনটি প্রধান প্ল্যাটফর্ম থেকে বিপুলসংখ্যক অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইনস্টাগ্রামে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৩৯টি, ফেসবুকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭টি এবং থ্রেডসে ৩৯ হাজার ৯১৬টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়।
গত বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় কার্যকর হওয়া এই আইনটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর অনলাইন রেগুলেশনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইনে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যের মতো অভিভাবকের অনুমতির সুযোগ এখানে রাখা হয়নি। আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিকে সর্বোচ্চ ৫ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ধরন নিয়ে মেটা শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ওপর না দিয়ে অ্যাপ স্টোর পর্যায়ে, যেমন অ্যাপল অ্যাপ স্টোর বা গুগল প্লে স্টোরে, করা হলে তা আরও কার্যকর হতো। এতে করে একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে নিষিদ্ধ হয়ে শিশুরা অন্য কম নিরাপদ অ্যাপে চলে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে বলে মেটার দাবি।
আইনটি অভিভাবকদের বড় অংশের সমর্থন পেলেও এর বাস্তব প্রভাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ ও কিশোর-কিশোরী মনে করছে, এই নিষেধাজ্ঞা বিশেষ করে এলজিবিটিকিউ+ ও নিউরোডাইভারজেন্ট তরুণদের সামাজিক যোগাযোগ ও মানসিক সমর্থনের পথ সংকুচিত করছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ভিপিএন ব্যবহার বা বয়স সংক্রান্ত ভুয়া তথ্য দিয়ে অনেকে সহজেই এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে পারে।
সিএ/এসএ


