আজকের দিনে প্রায় সবার হাতেই স্মার্টফোন, আর এর মানে হলো সবার কাছেই এখন একটি ক্যামেরা রয়েছে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, রঙিন সূর্যাস্ত কিংবা হঠাৎ ঘটে যাওয়া আনন্দের দৃশ্য—সবই মুহূর্তে ধরে রাখা যায়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, ফোনের গ্যালারিতে জমে থাকে অসংখ্য একঘেয়ে ও প্রাণহীন ছবি। এর প্রধান কারণ, ভালো ছবি তোলার কৌশল সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকা।
ছুটি কাটাতে যাওয়া হোক বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা—একটি ভালো ছবি স্মৃতিকে দীর্ঘদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা নিয়মিত ছবি শেয়ার করেন, তাদের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্মার্টফোনে ছবি তোলার ক্ষেত্রে সঠিক সেটিংস, লেন্সের ব্যবহার এবং কম্পোজিশনের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
বর্তমানের বেশিরভাগ স্মার্টফোনে একাধিক ক্যামেরা লেন্স থাকে, যেমন ওয়াইড বা মেইন লেন্স, টেলিফটো এবং আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স। ভিউফাইন্ডারে সাধারণত 0.5x, 1x, 2x বা 5x জুম অপশন দেখা যায়, যা প্রতিটি লেন্সের নির্দিষ্ট জুম লেভেল নির্দেশ করে। এই নির্দিষ্ট লেভেলেই ছবি তুললে ভালো মান বজায় থাকে, মাঝামাঝি ডিজিটাল জুম ব্যবহার করলে ছবির গুণমান কমে যেতে পারে।
মানুষের ছবি তুলতে হলে মেইন বা টেলিফটো লেন্স ব্যবহার করলে মুখের বিকৃতি কম হয় এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে স্বাভাবিক ব্লার পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক দৃশ্যের ক্ষেত্রে আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্স ভালো কাজ করে, কারণ এতে বিস্তৃত এলাকা এক ফ্রেমে ধরা পড়ে। দূরের কোনো বস্তু তুলতে টেলিফটো লেন্স উপযোগী হলেও অতিরিক্ত জুম এড়িয়ে চলা ভালো।
অনেকেই পোর্ট্রেট মোড ব্যবহার করেন ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করার জন্য, তবে এতে কখনো কখনো ছবিতে কৃত্রিম ভাব চলে আসে। প্রাকৃতিক ব্লার পেতে টেলিফটো লেন্স দিয়ে কিছুটা দূর থেকে ফ্রেম করা ভালো। ছবি তোলার আগে লেন্স পরিষ্কার করাও জরুরি, কারণ ধুলা বা আঙুলের দাগ থাকলে ছবি ঝাপসা হতে পারে।
ছবি তোলার সময় স্ক্রিনের ব্রাইটনেস বাড়িয়ে নিলে ফ্রেমিং সহজ হয়। ভার্টিক্যাল না হরিজন্টাল শট নেবেন, সেটিও আগে ঠিক করা দরকার। একাধিক মানুষ থাকলে নিজে ট্যাপ করে ফোকাস ঠিক করলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি স্পষ্ট দেখা যায়। এক্সপোজার নিয়ন্ত্রণ করতে স্ক্রিনে সূর্যের আইকন বা সেটিংস ব্যবহার করে উজ্জ্বলতা কমানো-বাড়ানো যায়।
একই দৃশ্যের একাধিক ছবি তুলতে চাইলে ফোকাস ও এক্সপোজার লক করে নেওয়া ভালো। খুব কম আলো না থাকলে ফ্ল্যাশ ব্যবহার না করাই উত্তম, কারণ এতে আলো অস্বাভাবিক দেখাতে পারে। দ্রুত মুহূর্ত ধরতে ফোন লক থাকা অবস্থায়ও ক্যামেরা চালু করার শর্টকাট জানা থাকলে সুবিধা হয়।
ভালো ছবি তুলতে দামী ক্যামেরার চেয়ে কম্পোজিশন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পেশাদাররা বলেন, রুল অব থার্ডস’ অনুসরণ করলে ছবি চোখে আরামদায়ক হয়। স্ক্রিনে গ্রিড অন করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে লাইনগুলোর ছেদবিন্দুর কাছে রাখলে ফ্রেম আরও আকর্ষণীয় হয়। তির্যক লাইন, রাস্তা বা সেতুর মতো উপাদান ব্যবহার করে ছবিতে গতি আনা যায়। সামনের কোনো বস্তু দিয়ে ফ্রেম তৈরি করলে গভীরতা বাড়ে, আর নিচু দিক থেকে শট নিলে দৃশ্য আরও নাটকীয় হয়।
আলোর ছায়ার কনট্রাস্টও ছবির সৌন্দর্য বাড়ায়। কিছুটা এক্সপোজার কমিয়ে বিষয়বস্তুকে উজ্জ্বল রাখা হলে ছবিতে গভীরতা আসে। অনেক সময় ব্যাকলাইটে তোলা সিলুয়েট ছবিও দারুণ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
যারা আরও পেশাদারভাবে কাজ করতে চান, তারা কিছু অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। VSCO দিয়ে এক্সপোজার, শাটার স্পিড ও হোয়াইট ব্যালান্স নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং র ফাইল সাপোর্ট পাওয়া যায়। Lightroom Mobile দিয়ে আলো ও রঙ সূক্ষ্মভাবে ঠিক করা যায় এবং পরে উন্নত মানের এডিট সম্ভব। আইওএস ব্যবহারকারীদের জন্য Halide Mark II অ্যাপে ম্যানুয়াল কন্ট্রোল, র ফটো ও ডেপথ মোডের সুবিধা রয়েছে, যদিও এটি পেইড।
সিএ/এমআর


