মহানবী (সা.)-এর জীবনে একটি বিশেষ স্থান দখল করে ছিল তাঁর প্রিয় উট ‘কাসওয়া’। এটি শুধু একটি বাহনই ছিল না, বরং ইসলামের ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হিসেবেও বিবেচিত।
সিরাত ও হাদিসের গ্রন্থগুলোতে কাসওয়ার বর্ণনা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। কোনো কোনো বর্ণনায় এই উটটির নাম ‘আদবা’ বা ‘জাদআ’ হিসেবেও উল্লেখ রয়েছে। অনেক গবেষকের মতে, কাসওয়া ও আদবা একই উটের ভিন্ন নাম।
‘কাসওয়া’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ কানের অগ্রভাগ কাটা হলেও অধিকাংশ গবেষকের মতে, এটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। উটটির দ্রুতগতি ও বৈশিষ্ট্যের কারণে এ নাম দেওয়া হয়েছিল।
মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় কাসওয়াই ছিল নবীজি (সা.)-এর সফরসঙ্গী। মদিনায় পৌঁছানোর পর সাহাবিরা নবীজিকে নিজেদের ঘরে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি বলেন, “উটকে ছেড়ে দাও, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট।” (ইবনে হিশাম, আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, ২/৪৯৪)
পরে উটটি একটি নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে বসে পড়ে, যেখানে পরবর্তীতে মসজিদে নববী নির্মিত হয়। এই ঘটনাকে আল্লাহর বিশেষ ইশারা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
হোদাইবিয়ার সন্ধির সময়ও কাসওয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে সময় উটটি হঠাৎ থেমে গেলে সাহাবিরা ক্লান্তির কথা বললেও নবীজি (সা.) বলেন, “কাসওয়া ক্লান্ত হয়নি, আর এটি তার স্বভাবও নয়; বরং তাকে সেই সত্তা রুখে দিয়েছেন, যিনি হস্তিবাহিনীকে মক্কায় প্রবেশ থেকে রুখে দিয়েছিলেন।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৭৩১)
নবীজির ইন্তেকালের পর কাসওয়া শোকাহত হয়ে পড়ে এবং খাদ্য গ্রহণ বন্ধ করে দেয় বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। কয়েকদিন পর সেটির মৃত্যু হয়। (ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ১/৪৯৬)
সাহাবিদের কাছেও কাসওয়া ছিল অত্যন্ত প্রিয়। তারা এটিকে আল্লাহর নির্দেশের বাহক ও নবীজির সঙ্গী হিসেবে সম্মান করতেন।
এই ইতিহাস থেকে মুসলিম উম্মাহর জন্য অন্যতম শিক্ষা হলো আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং নবীজির জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।
সিএ/এমআর


