মানুষের জীবনে শত্রুতা একটি স্বাভাবিক বিষয়। কেউ প্রকাশ্যে শত্রুতা করে, আবার কেউ বন্ধুর বেশে ক্ষতি করার চেষ্টা করে। তাই শত্রুর অনিষ্ট থেকে বাঁচতে ধর্মীয় নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামে শত্রুর ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকার জন্য কিছু দোয়া ও আমল শেখানো হয়েছে। হজরত আবু মুসা আশয়ারি (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্ষতির আশঙ্কা করতেন, তখন একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন।
اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ(উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফি নুহুরিহিম, ওয়া নাউজুবিকা মিং শুরুরিহিম।)
অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা তোমাকে শত্রুর মোকাবেলায় পেশ করছি, তুমিই তাদের দমন কর। আর তাদের অনিষ্ট থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই।
এছাড়া আরেকটি দোয়া রয়েছে—
حَسْبُنَا اللهُ وَ نِعْمَ الْوَكِيْلُ (উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল।)
অর্থ: আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
আরও একটি দোয়া পড়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে—
اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ ، سَرِيعَ الْحِسَابِ ، مُجْرِيَ السَّحَابِ ، هَازِمَ الأَحْزَابِ ، اهْزِمْهُمْ وَزَلْزِلْهُمْ (উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা মুনযিলাল কিতাব, সারিয়াল হিসাব; মুজরিয়াস সাহাব, হাযিমাল আহযাব। আহযিমহুম ওয়া যালযিলহুম।)
অর্থ: হে আমার মালিক! কোরআন অবতীর্ণকারী; দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী, মেঘকে পরিচালনাকারী। শত্রুবাহিনীকে পরাজিত ও প্রতিহত করো এবং তাদের মধ্যে কম্পন সৃষ্টি করে দাও।
এ দোয়াগুলোর পাশাপাশি কিছু আমলও গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতে বলা হয়েছে। আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা, হালাল খাদ্য গ্রহণ করা এবং মা-বাবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা—এসব বিষয় আমলের ফলপ্রসূতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ধর্মীয় নির্দেশনা মেনে চললে শত্রুর অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব বলে আলেমরা মনে করেন।
সিএ/এমআর


