জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে বিয়ে অন্যতম। তবে অনেকের ক্ষেত্রে নানা কারণে বিয়েতে বিলম্ব ঘটে, যা মানসিক চাপ ও হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ পরিস্থিতিতে অনেকে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া বা আমলের সন্ধান করেন।
ইসলামে বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নির্ধারিত নেই। আলেমদের মতে, দোয়ার কার্যকারিতা শব্দের ওপর নয়, বরং আন্তরিকতা, ইখলাস এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের ওপর নির্ভরশীল।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “আমি তোমাদের মন্দ ও ভালো দিয়ে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমারই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।” (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৩৫)
ইসলামী শিক্ষায় জীবনকে একটি পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে প্রত্যেক মানুষই কোনো না কোনোভাবে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। ধৈর্য ধারণকারীরাই শেষ পর্যন্ত সফল হয়।
এ প্রসঙ্গে ফুজাইল ইবনে আইয়াজ (র.) বলেছেন, “মানুষ যতক্ষণ সুখে থাকে ততক্ষণ তাদের আসল রূপ ঢাকা থাকে, কিন্তু বিপদ আসবামাত্র মুমিন তার ইমানের দিকে এবং মোনাফেক তার শঠতার দিকে ধাবিত হয়।”
আল্লাহ মানুষের জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তাই কোনো বিষয়ে বিলম্ব হলে বিচলিত না হয়ে আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা মুমিনের বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
হাদিসে এসেছে, “মুমিনের প্রতিটি বিষয়ই বিস্ময়কর; তার সবকিছুই তার জন্য কল্যাণকর। যদি সে সুখ পায় এবং শোকরিয়া আদায় করে, তবে তা তার জন্য কল্যাণ। আর যদি সে দুঃখ পায় এবং ধৈর্য ধরে, তবে তাও তার জন্য কল্যাণের।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৯৯)
ইসলামী দৃষ্টিতে জীবনের কষ্ট ও প্রতিকূলতা গুনাহ মাফ এবং মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হয়। তাই ধৈর্য, প্রার্থনা এবং সৎকর্মের মাধ্যমে এ সময় অতিক্রম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সিএ/এমআর


