বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও কৌশলগত অবস্থানের গুরুত্ব বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য একটি জ্ঞানভিত্তিক, কৌশলনির্ভর ও সচেতন তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাব্যবস্থার শুরু থেকেই ভূকৌশল ও কূটনীতির ধারণা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য, বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রভাব এবং বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে তরুণদের ধারণা দেওয়া জরুরি।
তরুণদের কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞানে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোতে বাস্তব অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক, পানিবণ্টন বা অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে যুব সংলাপ এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বাংলাদেশ ইয়ুথ জিওপলিটিক্যাল ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে তরুণরা গবেষণা, সংলাপ ও নীতিনির্ধারণী আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন।
পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায়ও তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় যুব অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ‘ইয়ুথ ইকুইটি কোটা’ চালুর কথাও বলা হয়েছে, যাতে পরিবেশ ও উন্নয়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তরুণদের মতামত প্রতিফলিত হয়।
এছাড়া ‘ক্লাইমেট ইয়ুথ কর্পস’ গঠনের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে তরুণদের সংগঠিত করার প্রস্তাব রয়েছে।
উদ্ভাবনী নেতৃত্ব গঠনে জাতীয় বাজেটে ‘ইয়ুথ সার্বভৌমত্ব তহবিল’ গঠনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এর মাধ্যমে তরুণ গবেষক, উদ্ভাবক ও চিন্তাবিদদের সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।
একইসঙ্গে ‘থিংক বাংলাদেশ ২০৫০’ নামে একটি যুব পরিচালিত গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের শুধু কর্মসংস্থানের দিকে না দেখে রাষ্ট্রগঠনের অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাদের হাতে জ্ঞানচর্চা, কৌশল উন্নয়ন ও নেতৃত্বের সুযোগ তুলে দিতে পারলেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী হবে।
সিএ/এমআর


