ইসলামে আল্লাহর জিকিরকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, জিকির এমন একটি আমল যা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় এবং বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করে। আবুদ দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের উত্তম আমলসমূহের সন্ধান দেব না? যা তোমাদের মালিকের কাছে সবচেয়ে পবিত্র, তোমাদের সবচেয়ে মর্যাদা বৃদ্ধিকারী, সোনা ও রূপা দান করার চেয়ে উত্তম এবং শত্রুর সম্মুখীন হয়ে তাদের গর্দান কাটা ও তোমাদের গর্দান কাটানোর চেয়ে শ্রেয়। তারা সবাই বললেন, অবশ্যই। তিনি বললেন, আল্লাহ তায়ালার জিকির। (সুনানে তিরমিজি)
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, জিকির মানুষের অন্তরে প্রশান্তি আনে এবং দুশ্চিন্তা দূর করে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ শান্তি লাভ করে। নিয়মিত জিকির করলে মানুষের আত্মিক শক্তির পাশাপাশি কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায় বলে মনে করেন আলেমরা।
তারা আরও বলেন, জিকির মানুষের সময়কে বরকতময় করে তোলে এবং অল্প সময়ে বেশি কাজ সম্পন্ন করার সক্ষমতা তৈরি করে। যারা নিয়মিত জিকির করেন, তারা মানসিকভাবে অধিক দৃঢ় ও প্রশান্ত থাকেন।
ইতিহাসে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যেখানে জিকিরের মাধ্যমে মানুষের জীবনধারা পরিবর্তিত হয়েছে। ইবনে কাইয়্যিম (রহ.) উল্লেখ করেছেন, তার শিক্ষক শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া নিয়মিত জিকিরের মাধ্যমে অসাধারণ কর্মক্ষমতা অর্জন করেছিলেন।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়, জিকির শুধু ইবাদত নয়, বরং এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে মানসিক শান্তি ও আত্মিক শক্তির উৎস হিসেবেও কাজ করে।
সিএ/এমআর


