ইসলাম মানবিকতা ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে গুরুত্ব দিয়ে দান-খয়রাতের মাধ্যমে সম্পদ বণ্টনের ওপর জোর দেয়। অর্থ ও সম্পদ জমিয়ে রাখার পরিবর্তে তা মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্রের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার আদেশ করে, আর আল্লাহ তোমাদেরকে স্বীয় মাগফিরাত ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আল্লাহ অতি প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা বাকারা : ২৬৮)।
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সহানুভূতি প্রদর্শন করা একটি মহৎ গুণ। ইসলামের প্রাথমিক যুগে আনসার ও মুহাজিরদের পারস্পরিক সহযোগিতা এ ক্ষেত্রে একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
কোরআনে উল্লেখ রয়েছে, ‘তারা (আনসাররা) নিজেদের ওপর (মুহাজিরদের) প্রাধান্য দেয়। যদিও নিজেদের প্রয়োজন ও অভাব থাকে। যারা স্বভাবগত কার্পণ্য হতে মুক্তি লাভ করে, তারাই তো সফলকাম।’ (সুরা হাশর : ৯)।
এছাড়া দান করার ক্ষেত্রে প্রিয় ও উৎকৃষ্ট বস্তু দানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা কস্মিনকালেও কল্যাণ (পূর্ণ সওয়াব) লাভ করতে পারবে না, যদি তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে তোমরা ব্যয় না কর।’ (সুরা আলে ইমরান : ৯২)।
ইসলাম শুধু অর্থ দানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভালো আচরণ, সহমর্মিতা এবং অন্যের কল্যাণে কাজ করাকেও গুরুত্ব দেয়। এই মূল্যবোধগুলো সমাজে ন্যায়, সহানুভূতি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সিএ/এমআর


