রমজান মাস আত্মসংযম ও ধৈর্যের শিক্ষা দিলেও বাস্তবে অনেকেই এই সময় মেজাজের অস্থিরতা অনুভব করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে জৈবিক, মানসিক ও সামাজিক বিভিন্ন কারণের সমন্বয়।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়, যা মস্তিষ্কের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স অংশ আবেগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কিন্তু শক্তির ঘাটতিতে এটি দুর্বল হয়ে পড়লে মানুষ দ্রুত রেগে যেতে পারে। মনোবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে ‘হ্যাঙ্গরি’ বলা হয়।
রমজানে ঘুমের স্বাভাবিক রুটিন পরিবর্তিত হওয়াও বড় একটি কারণ। সাহ্রি, ইবাদত ও কাজের চাপের কারণে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনা বাড়ায়।
এছাড়া নিয়মিত চা বা কফি পানকারীদের ক্ষেত্রে হঠাৎ ক্যাফেইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাথাব্যথা, মনোযোগের অভাব ও বিরক্তি তৈরি হতে পারে। একইভাবে কাজের চাপ, যানজট ও সময়ের সংকটও মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ধর্মীয় অনুপ্রেরণা থেকে রোজা রাখেন, তারা তুলনামূলকভাবে আবেগ নিয়ন্ত্রণে বেশি সক্ষম হন। অর্থাৎ রোজা নিজে রাগ বাড়ায় না, বরং জীবনযাত্রার পরিবর্তনই এ সমস্যার মূল কারণ।
ইসলামে ধৈর্য ধারণ ও রাগ নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রোজার মূল লক্ষ্যই হলো আত্মনিয়ন্ত্রণ অর্জন, যা এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।
সিএ/এমআর


