ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করতে পারছেন না হাজার হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লি। ফলে রমজানের শেষ দিনগুলোতে তারা মসজিদের বাইরে সড়কেই নামাজ আদায় করতে বাধ্য হচ্ছেন।
গত কয়েক বছরে রমজান মাসে বিশেষ করে জুমার দিনে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে আল-আকসা প্রাঙ্গণ মুখর থাকত। কিন্তু চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নিরাপত্তার অজুহাতে জেরুজালেমের পুরনো শহর ও পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
সব বাধা সত্ত্বেও অনেক ফিলিস্তিনি মুসল্লি আল-আকসার নিকটবর্তী এলাকায় এসে নামাজ আদায় করছেন। মসজিদে প্রবেশ করতে না পেরে তারা বাব আল-সাহিরা গেটের আশেপাশে মাদুর বিছিয়ে মাগরিব, এশা ও তারাবির নামাজ আদায় করছেন।
জেরুজালেমের ৬৫ বছর বয়সী বাসিন্দা ইকরিমা আল-হুসাইনি জানান, গত অর্ধশতাব্দী ধরে তিনি কখনও আল-আকসায় তারাবির নামাজ মিস করেননি। তিনি বলেন, অর্ধ শতাব্দী ধরে আমি প্রতি রমজানে এখানে আসছি। কিন্তু এ বছরের পরিস্থিতি একদমই আলাদা। শেষ দশ দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে ভেতরে থাকতাম। এখন বাইরে নামাজ পড়তে হওয়ায় মনে হচ্ছে খুব মূল্যবান কিছু আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
৪০ বছর বয়সী রামি মোহাম্মদ জানান, পুরনো শহরের বাইরে শত শত মানুষকে জায়নামাজ বিছিয়ে একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষ ভেতরে ঢুকতে না পারলেও যতটা সম্ভব মসজিদের কাছাকাছি থাকতে চাইছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার মধ্যে কষ্ট থাকলেও আল-আকসার প্রতি মানুষের টান ও সংহতি আরও দৃঢ় হচ্ছে।
জেরুজালেমভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ওয়াদি হিলওয়েহ ইনফরমেশন সেন্টার জানিয়েছে, বাব আল-সাহিরা গেটের কাছে নামাজ আদায় করতে আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী তল্লাশি চালিয়েছে। এ সময় অনেককে আটক ও মারধরের অভিযোগও ওঠে। কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
১৯৬৭ সালের পর এবারই প্রথমবারের মতো আল-আকসা মসজিদ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। যুদ্ধের আগ থেকেই সেখানে প্রবেশে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
জর্ডান পরিচালিত আল-আকসা ওয়াকফ পরিষদ জানিয়েছে, রমজানের আগেই তাদের কয়েকজন কর্মীকে প্রশাসনিকভাবে আটক করেছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত। এছাড়া মসজিদের বহু কর্মী ও ইমামের ওপর প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আটটি মুসলিম ও আরব দেশ যৌথভাবে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। তারা একে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং উপাসনালয়ে অবাধ প্রবেশাধিকারের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সিএ/এমআর


