রমজান মাসে ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্ব মুসলমানদের কাছে বিশেষভাবে বেড়ে যায়। এই সময় অনেকেই তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের নিয়ম এবং রাকাত সংখ্যা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন।
ইসলামী শরিয়তে তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো রাকাত সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি। আলেমদের মতে, এই নামাজ দুই রাকাত থেকে শুরু করে চার, ছয় বা আট রাকাত পর্যন্ত আদায় করা যেতে পারে। সাধারণত শেষে বিতর নামাজ আদায়ের মাধ্যমে রাতের নামাজ সমাপ্ত করা উত্তম বলে বিবেচিত হয়।
হজরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবাদের রাতের বেলা কম বা বেশি নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছেন এবং রাতের শেষ নামাজ হিসেবে বিতর পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
তাহাজ্জুদ শব্দের অর্থ হলো রাতে ঘুম থেকে জেগে নামাজ আদায় করা। সাধারণত রাতের একটি অংশ ঘুমানোর পর এই নামাজ পড়া হয়। তবে এশার নামাজের পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত যেকোনো সময় এই নামাজ আদায় করা যায়।
তবে ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, রাতের শেষ অংশে এই নামাজ আদায় করা সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ। কারণ এ সময় আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ বেশি থাকে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বান্দাদের আহ্বান করেন। তিনি বলেন, কে আছো যে আমাকে ডাকবে আর আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আছো যে আমার কাছে কিছু চাইবে আর আমি তাকে তা দান করব? কে আছো ক্ষমা প্রার্থনাকারী যাকে আমি ক্ষমা করে দেব?
অনেকের মনে কিয়ামুল লাইল এবং তাহাজ্জুদ নামাজের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন থাকে। ইসলামী ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোরআনে রাতের ইবাদতকে সাধারণভাবে কিয়ামুল লাইল বলা হয়েছে, যা মূলত তাহাজ্জুদ নামাজকেই বোঝায়।
তাহাজ্জুদ নামাজ একটি নফল ইবাদত হলেও এটি বান্দাকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী করে এবং আত্মশুদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করে। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত এই নামাজ আদায়ের পরামর্শ দিয়ে থাকেন আলেমরা।
সিএ/এমআর


