রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ পালনকে ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি কেবল একটি ধর্মীয় অনুশীলন নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি বিশেষ সুযোগ। এ সময় ইবাদতে মনোনিবেশের মাধ্যমে শবে কদরের অশেষ সওয়াব লাভের সম্ভাবনা থাকে।
ইতিকাফে সময়ের যথাযথ ব্যবহারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়। তারাবির নামাজ শেষ হওয়ার পর থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টুকু ইবাদত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে কাটানোর জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। অলসতা দূরে রেখে মনোযোগ সহকারে ইবাদতে সময় ব্যয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ সময় কোরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। তিলাওয়াতের পাশাপাশি কোরআনের অর্থ ও তাৎপর্য উপলব্ধির চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ। নিজের জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা এবং ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করাও ইতিকাফের অন্যতম উদ্দেশ্য।
দীর্ঘ সময় ইবাদত করতে গিয়ে অনেক সময় ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। তাই মাঝে মাঝে স্বল্প বিরতি নেওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে শরীর সতেজ থাকে এবং ইবাদতে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।
এ ছাড়া রাতভর বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করারও পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে সেহরির আগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ সময় দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হয়।
ইতিকাফে অবস্থান করার সময় বাইরে গিয়ে দান করার সুযোগ না থাকলেও আগে থেকেই দান-সদকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পরিবার বা পরিচিতদের মাধ্যমে অসহায়দের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে।
এ সময় বিনয়ী আচরণ, ধৈর্য ও আত্মসংযম বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাগ ও অসহিষ্ণুতা থেকে দূরে থেকে শান্ত আচরণ করা ইবাদতের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি জানতে পারি যে আজ কদরের রাত, তবে আমি কী বলব? নবীজি (সা.) তাকে এই দোয়াটি পড়তে বলেন—
আরবি উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।
অনুবাদ :হে আল্লাহ! আপনি নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল এবং আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দিন।
সিএ/এমআর


