ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদতগুলোর মধ্যে জাকাত অন্যতম। নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক মুসলমানদের জন্য এটি আদায় করা ফরজ। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি দান-খয়রাত ও জাকাত আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
ইসলামি শরিয়তে জাকাতের বিধান সম্পর্কিত বিভিন্ন মাসয়ালা রয়েছে, যা মুসলমানদের জানা ও অনুসরণ করা জরুরি বলে মনে করেন আলেমরা।
প্রথমত, কোনো ব্যক্তির ওপর যদি এমন পরিমাণ ঋণ থাকে যা পরিশোধ করার পর তার কাছে নিসাব পরিমাণ জাকাতযোগ্য সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে তার ওপর জাকাত ফরজ হয় না। তবে এ ক্ষেত্রে ঋণের ধরন বিবেচনা করতে হয়। (মুয়াত্তা মালেক ১০৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৮৩)
ঋণ সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হলো ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণের জন্য নেওয়া ঋণ এবং অন্যটি ব্যবসা-বাণিজ্য বা উন্নয়নমূলক কাজে নেওয়া ঋণ। ব্যক্তিগত প্রয়োজনের ঋণ সম্পদ থেকে বাদ দিয়ে নিসাবের হিসাব করতে হয়। কিন্তু ব্যবসা সম্প্রসারণ, কারখানা নির্মাণ বা ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভবন নির্মাণের জন্য নেওয়া ঋণ জাকাতের হিসাবের ক্ষেত্রে ধর্তব্য হয় না। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদিস ৭০৮৭)
বিয়ে-শাদির সময় নির্ধারিত মোহরানার যে অংশ বাকি থাকে তা স্বামীর কাছে স্ত্রীর পাওনা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে জাকাত ফরজ হওয়া না হওয়ার ক্ষেত্রে এই পাওনা ঋণ হিসেবে বাদ দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ জাকাতযোগ্য সম্পদের হিসাবের সময় সম্পূর্ণ সম্পদের ওপরই জাকাত দিতে হবে। (রদ্দুল মুহতার ২/২৬১)
অন্যকে কর্জ হিসেবে দেওয়া অর্থ বা বাকিতে বিক্রি করা পণ্যের পাওনা টাকা যদি পৃথকভাবে বা অন্য জাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে মিলিয়ে নিসাব পূর্ণ করে, তাহলে তার ওপরও জাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদিস ৭১১১-৭১১৩,৭১২১,৭১২৩,৭১২৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৮৪-৪৮৬)
পাওনা টাকা আদায় হওয়ার পর সেই অর্থের জাকাত আদায় করা ফরজ হয়। তার আগে আদায় করা বাধ্যতামূলক নয়, তবে কেউ চাইলে আগেই জাকাত আদায় করতে পারেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদিস ১০৩৪৭, ১০৩৫৬)
যদি পাওনা টাকা আদায় হতে কয়েক বছর সময় লেগে যায়, তাহলে টাকা হাতে পাওয়ার পর পূর্ববর্তী সব বছরের জাকাত আদায় করতে হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদিস ৭১১৬,৭১২৯,৭১৩১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদিস ১০৩৪৬, ১০৩৫৬)
স্বামীর কাছে পাওনা মোহরানা যদি নিসাব পরিমাণও হয়, তবু তা স্ত্রীর হাতে আসার আগে পর্যন্ত তার ওপর জাকাত ফরজ হয় না। তবে যদি আগে থেকেই তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে নতুন প্রাপ্ত মোহরানা সেই সম্পদের সঙ্গে যোগ হয়ে যাবে এবং বছর পূর্ণ হলে সমগ্র সম্পদের ওপর জাকাত দিতে হবে।
সিএ/এমআর


