পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই মাসের গুরুত্ব আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায় শবে কদরের কারণে। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মহিমান্বিত রাতেই মহান আল্লাহ ফেরেশতা জিবরাইল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল করেন।
পবিত্র কোরআনে মোট ১১৪টি সুরা রয়েছে। এর মধ্যে সুরা কদর হলো ৯৭তম সুরা। এই সুরাটির আয়াত সংখ্যা পাঁচটি এবং রুকুর সংখ্যা একটি। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী এটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। একটি বিশেষ রাতের গুরুত্ব তুলে ধরতে সম্পূর্ণ একটি সুরা নাজিল করা হয়েছে, যা থেকে শবে কদরের মাহাত্ম্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
سورة القدر
اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰہُ فِیۡ لَیۡلَۃِ الۡقَدۡرِ ۚۖ ١ وَمَاۤ اَدۡرٰىکَ مَا لَیۡلَۃُ الۡقَدۡرِ ؕ ٢ لَیۡلَۃُ الۡقَدۡرِ ۬ۙ خَیۡرٌ مِّنۡ اَلۡفِ شَہۡرٍ ؕؔ ٣ تَنَزَّلُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ وَالرُّوۡحُ فِیۡہَا بِاِذۡنِ رَبِّہِمۡ ۚ مِّنۡ کُلِّ اَمۡرٍ ۙۛ ٤ سَلٰمٌ ہِیَ حَتّٰی مَطۡلَعِ الۡفَجۡرِ ٪ ٥
উচ্চারণ: ইন্না আনযালনাহু ফী লাইলাতিল কদর। অমা আদরা কামা লাইলাতুল কাদর। লাইলাতুল কাদরি খাইরুম মিন আলফি শাহর। তানাযযালুল মালায়িকাতু অররূহু ফীহা বিইযনি রাব্বিহিম মিন কুল্লি আমরি। সালামুন হিয়া হাত্তামাত্ব লাই’ল ফাজ্বর।
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি মহিমান্বিত রাতে। আর আপনি কি জানেন মহিমান্বিত রজনি কী? মহিমান্বিত রজনি হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এ রজনীতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ এবং রুহ তাদের প্রতিপালকের আদেশত্রুমে অবতীর্ণ হয়। এবং ভোর উদিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কেবল শান্তি আর শান্তি বিরাজ করে।’ (আল-কদর, আয়াত : ১-৫)
ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়, লাইলাতুল কদরে বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট নামাজের পদ্ধতি নির্ধারিত নেই। তবে এ রাতে দুই রাকাত করে যত মনোযোগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে নামাজ আদায় করা যায় তা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। একই সঙ্গে কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া, ইস্তেগফার ও তওবা করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ধর্মীয় পণ্ডিতরা বলেন, এই রাত আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ সুযোগ। তাই রমজানের শেষ দশকে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে লাইলাতুল কদরের সন্ধান করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমআর


