রমজান মুসলমানদের আত্মশুদ্ধির মাস। এই সময় শুধু ধর্মীয় অনুশীলনই নয়, বিশ্বের অনেক দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর প্রবণতাও দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে রমজানকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা পণ্যে বিশেষ মূল্যছাড় ঘোষণা করেন। এমনকি অনেক অমুসলিম দেশেও রমজান উপলক্ষে পণ্যের দাম কমানো হয়। অনেক জায়গায় এটি রীতিতে পরিণত হয়েছে।
সৌদি আরবে রমজান মাসে সাধারণত নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে না। বরং ক্রেতাদের সুবিধা দিতে সুপার মার্কেট ও কাঁচাবাজারে বিভিন্ন পণ্যে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেয় যাতে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম না বাড়ানো হয়। নিয়ম ভঙ্গ করলে জরিমানার ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে বাজারে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই থাকে। ফলমূলের দামও অনেক সময় কমে যায়। অনেক কোম্পানি প্রায় ১২ হাজার পণ্যে মূল্যছাড় দেয়, যেখানে খাদ্যপণ্যে সর্বোচ্চ ৭৭ শতাংশ এবং অন্যান্য পণ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়।
কাতারেও রমজান উপলক্ষে প্রায় ৮০০ ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো হয়। রমজান শুরুর কয়েকদিন আগে থেকেই এই মূল্যছাড় কার্যকর করা হয় এবং পুরো মাসজুড়ে তা বহাল থাকে। দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় নির্ধারিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী বাজারে পণ্য বিক্রির নির্দেশ দেয়। দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য, রান্নার তেল, ঘি, পনির, হিমায়িত সবজি, বাদাম, ফলের রস, মধু ও বিভিন্ন টিনজাত খাবারসহ বহু পণ্যে ছাড় দেওয়া হয়। খেজুরের প্রায় ২৫ ধরনের ওপরও বিশেষ মূল্যছাড় থাকে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজান শুরু হওয়ার প্রায় এক মাস আগ থেকেই বিভিন্ন পণ্যে মূল্যছাড় দেওয়া হয়। রমজান যত ঘনিয়ে আসে, ছাড়ের পরিমাণও তত বাড়তে থাকে। প্রায় ছয় হাজার পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়। অনেক হাইপার মার্কেট ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ঘোষণা দেয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ অফার, গিফট কার্ড এবং এখন কিনে পরে দাম দেওয়ার মতো সুবিধাও দিয়ে থাকে। ‘গত বছরের চেয়েও কম দাম’ প্রচারণাও চালু করে কিছু প্রতিষ্ঠান।
কুয়েতে রমজান এলে সুপার মার্কেট ও খুচরা দোকানগুলোতে মূল্যছাড়ের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। বড় বড় হাইপার মার্কেটের পাশাপাশি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও বিভিন্ন পণ্যে বিশেষ ছাড় দেন। চাল, ডাল, তেল, চিনি, ফলমূলসহ রমজানে বেশি চাহিদাসম্পন্ন পণ্যে মূল্যছাড় দেখা যায়। বাজারে যাতে কেউ অতিরিক্ত দাম না নিতে পারে, সেজন্য কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে।
মিশরে রমজান উপলক্ষে রাজধানী কায়রোতে সরকারের তত্ত্বাবধানে খাদ্যমেলার আয়োজন করা হয়। ‘ওয়েলকাম রমজান ফেয়ার’ নামে পরিচিত এই মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খাদ্যপণ্যে বিশেষ ছাড় দিয়ে বিক্রি করে। রান্নার তেল, চাল, পাস্তা, মাংস, শাকসবজি ও ফলমূলসহ নানা ধরনের পণ্য কম দামে বিক্রি করা হয়। মেলা শেষ হওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ বুথের মাধ্যমে একই দামে পণ্য বিক্রি করা হয়।
মালয়েশিয়াতেও রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ব্যাপক ছাড় দেওয়া হয়। চাল, ডাল, তেল, মসলা, মাছ, মাংস ও ফলমূলের পাশাপাশি পোশাক ও প্রসাধনীর ওপরও মূল্যছাড় দেওয়া হয়। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার নিয়মিত তদারকি চালায় এবং পণ্যের মান নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়।
এছাড়া ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার অনেক জায়গায় উৎসব উপলক্ষে বড় ধরনের মূল্যছাড় দেওয়া হয়। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন দোকান ও সুপার মার্কেটে বিশেষ অফার দেখা যায়। অনেক ব্যবসায়ী ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার অংশ হিসেবে লাভ কমিয়ে পণ্য বিক্রি করেন।
ওমানেও রমজান এলেই শপিংমলগুলোতে পণ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়। সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে বাজার মনিটরিং করে এবং পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করে। ফলে রমজান মাসে ক্রেতারা স্বস্তিতে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারেন।
সিএ/এমআর


