মাহে রমজান মুসলমানদের জন্য রহমত, বরকত ও ক্ষমা লাভের বিশেষ সময়। এ মাসে মানুষ আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজের প্রয়োজন ও আশা-আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেন।
ইসলামে দোয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা মোমিন : ৬০)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞেস করে, (বলো) আমি কাছেই, যখন কেউ আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’ (সুরা বাকারা : ১৮৬)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে চায় না, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হন।’ (তিরমিজি : ৩৩১৯)। ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, আল্লাহর দরবার সব সময় বান্দার জন্য উন্মুক্ত। মানুষ যেকোনো সময় তাঁর কাছে দোয়া করতে পারে।
তবে হাদিসে এমন কিছু সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যখন দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে বর্ণনা করা হয়েছে। রমজান মাসে এসব সময় বিশেষভাবে গুরুত্ব বহন করে।
রাতের শেষ প্রহরকে এমন একটি সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমাদের মহামহিম প্রতিপালক প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেন, কে আছে যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আছে যে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দেব। কে আছে যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।’ (বোখারি : ১১৪৫)।
ইফতারের আগমুহূর্তকেও গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না- ইফতারের আগে রোজাদারের দোয়া, ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া ও অত্যাচারিত ব্যক্তির দোয়া। আল্লাহতায়ালা তা মেঘমালার ওপরে তুলে নেন।’ (তিরমিজি : ৩৫৯৮)।
এছাড়া ফরজ নামাজের পর দোয়া করার সময়ও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রাতের শেষভাগে এবং ফরজ নামাজ শেষে দোয়া অধিক কবুল হয়।’ (তিরমিজি : ৩৪৯৯)।
আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়েও দোয়া করার গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত দোয়া কখনোই ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ (তিরমিজি : ৩৫৯৪)।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো সেজদা অবস্থায় দোয়া করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা সেজদা অবস্থায় স্বীয় রবের সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়। অতএব, তোমরা অধিক মাত্রায় ওই অবস্থায় দোয়া কর।’ (মুসলিম : ৪৮২)।
রমজান মাসে এসব সময়কে গুরুত্ব দিয়ে বেশি বেশি ইবাদত ও দোয়া করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমআর


